নিউমোনিয়া কেন হয়, লক্ষণ কি এবং প্রতিকার-প্রতিরোধ

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক আপনি অনেক খোঁজাখুজির পর নিশ্চয়ই নিউমোনিয়া কেন হয়, লক্ষণ কি এবং প্রতিকার-প্রতিরোধ কি তা জানার জন্যই আমাদের এই সাইটটিতে এসেছেন।
নিউমোনিয়া কেন হয়, লক্ষণ কি এবং প্রতিকার-প্রতিরোধ
হ্যাঁ আজকে আমি নিউমোনিয়া কেন হয়, লক্ষণ কি এবং প্রতিকার-প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করব। এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।

নিউমোনিয়া কি

আলোচনা শুরুতেই জেনে নেই নিউমোনিয়া কি। নিউমোনিয়া হল ফুসফুসের একটি সংক্রমণ। এটি ফুসফুসের ছোট বায়ুথলি (অ্যালভিওলি) ফুলে যাওয়া এবং তরল দিয়ে ভরে যাওয়ার কারণে ঘটে। ফলে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীর অক্সিজেন পাওয়া থেকে বিরত থাকে।

নিউমোনিয়া সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের কারণে হয়। ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া সবচেয়ে সাধারণ ধরন, তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া আরও গুরুতর হতে পারে।

নিউমোনিয়া কেন হয়

এবার আমরা জানবো নিউমোনিয়া কেন হয়। নিউমোনিয়া হলে কিভাবে বুঝতে পারব নিমন্যার লক্ষণ কি নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার কি এবং কি কি কাজ করলে আমরা নিউমোনিয়াকে প্রতিরোধ করতে পারি। নিউমোনিয়া হল ফুসফুসের প্রদাহ। ফুসফুসের ছোট ছোট বায়ু থলি, যাকে আলভিওলি বলা হয়, সেখানে জীবাণুর সংক্রমণের ফলে এই প্রদাহের সৃষ্টি হয়। নিউমোনিয়ার প্রধান তিনটি কারণ হল:

ভাইরাস: আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত কারণে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে। ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়ার অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে সাধারণ ভাইরাল নিউমোনিয়ার কারণ হল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি), এবং অ্যাডেনোভাইরাস।

ব্যাকটেরিয়া: কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণেও নিউমোনিয়া হয়ে থাকে।ব্যাকটেরিয়ার কারণে নিউমোনিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার কারণ হল স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিই, মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিই, এবং হ্যামোফিলা ইনফ্লুয়েঞ্জা।

ছত্রাক: কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রাম পজিটিভ এবং গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে নিউমোনিয়া হয়ে থাকলেও ছত্রাকের মাধ্যমে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে। ছত্রাকের কারণে নিউমোনিয়ার ঘটনা খুবই কম। ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়ার সাধারণ কারণ হল হিসটোপ্লাসম কাপ্সুলাটাম, ব্লাসটোমাইসেস, এবং ক্রিপ্টোকক্কাস নিওফরমান্স।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ

নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলি সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে খারাপ হতে থাকে। নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলি হল:
  • জ্বর: নিউমোনিয়া হলে সাধারণত ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা তার বেশি।
  • কাশি: সাধারণত শুষ্ক কাশি, যা পরে কফের সাথে হতে পারে, যা নিউমোনিয়া রোগের মূল লক্ষণ।
  • শ্বাসকষ্ট: আপনার বা আপনার রোগীর যদি শ্বাস নিতে কষ্ট, বিশেষ করে গভীর শ্বাস নিতে তাহলে বুঝবেন আপনার আপনার রোগীর নিউমোনিয়া হয়েছে।
  • বুকে ব্যথা: যদি বুকে ব্যথা অনুভূত হয় বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা, তাহলে বুঝতে হবে এটি হলো নিউমোনিয়ার লক্ষণ।
  • শরীরের ব্যথা: বিভিন্ন কারণে শরীর ব্যথা হতে পারে তবে, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বা ক্লান্তি এরকম দেখা দিলে ধরে নিতে হবে আপনার বা আপনার রোগীর নিউমোনিয়া হয়েছে।

নিউমোনিয়ার প্রতিকার-প্রতিরোধ

কথাই বলে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। নিউমোনিয়ার প্রতিকারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল নিয়মিত টিকা নেওয়া। ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে টিকা নিলে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে একটু সচেতন হলেই আপনি আপনার বা আপনার রোগীর বা আপনার স্বজনেরনিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে পারবেন।

আসুন আজ আমরা কিভাবে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারি। নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমাতে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলিও গ্রহণ করা যেতে পারে:
  • হাত ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার রাখা।
  • ধূমপান করা থেকে বিরত থাকা।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া।

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা

বর্তমান সময়ে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করা খুব একটি জটিল বিষয় নয়। নিউমোনিয়ার চিকিৎসা জীবাণুর ধরন এবং রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে। ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্য সাধারণত ঔষধের প্রয়োজন হয় না। ব্যাকটেরিয়াল বা ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করার মূল লক্ষ্য কি। চলুন জেনে নেই নিউমোনিয়ার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য।

নিউমোনিয়ার চিকিৎসার লক্ষ্য হল:
  • জীবাণুকে মেরে ফেলা বা প্রতিরোধ করা।
  • প্রদাহ কমানো।
  • শ্বাসকষ্ট কমানো।
নিউমোনিয়ার চিকিৎসা সাধারণত হাসপাতালে বা বাড়িতে করা যেতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হলে সাধারণত অক্সিজেন থেরাপি, ইনফিউশন থেরাপি, এবং অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি দেওয়া হয়।

কখন সন্দেহ করবেন শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে

তোর শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু কখন সন্দেহ করবেন যে আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে। শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলি সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে খারাপ হতে থাকে। শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলি হল:
  • জ্বর: বিশেষ করে বিভিন্ন রোগের প্রারম্ভিক লক্ষণই হচ্ছে জ্বর আসলে জ্বর কোন রোগ নয়। সাধারণত ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা তার বেশি তাহলে বুঝতে হবে আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে।
  • কাশি: ফুসফুসের কোন সমস্যা হলে সাধারণত কাশি হয় সেক্ষেত্রে জ্বরের সাথে যদি শুষ্ক কাশি থাকে তবে ধরে নিতে হবে শিশুর নিম্ন নেয়া হয়েছে। সাধারণত শুষ্ক কাশি, যা পরে কফের সাথে হতে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট: ঝড়ের সাথে যদি শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে মনে করে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। শ্বাস নিতে কষ্ট, বিশেষ করে গভীর শ্বাস নিতে।
  • বুকে ব্যথা: বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে তবেশ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা তাহলে বুঝতে হবে।
  • শরীরের ব্যথা: সময় শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন মাথা পেশী ব্যথা করে। যদি জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বা ক্লান্তি আসে তাহলে বুঝতে হবে হয়তো নিউমোনিয়া হয়েছে।

শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণ

উপযুক্ত কারণগুলো ছাড়াও যদি নিম্নের উপসর্গ বা লক্ষণগুলো যদি আপনার শিশু মধ্যে থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে। চলুন জেনে নেই শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণ গুলি।
  • শিশুর খাওয়া কমে যাওয়া বা খাওয়ার প্রতি অনীহা বা খেতে চায় না।
  • খেয়াল করুন আপনার শিশুর সকল কাজেই অস্থিরতা বা বিরক্তি।
  • আপনার শিশুর বুকের খাঁচার মধ্যে ফাঁক দেখা যাওয়া।
  • শিশুর শ্বাসের সাথে ঘড়ঘড় আওয়াজ হওয়া এবং শিশু কোন কিছুই খেতে না চাওয়া।
  • আপনার শিশুর নীল হয়ে যাওয়া এটাও একটি বড় ধরনের লক্ষণ।
শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবশ্যই একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুর নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে

এখন চলুন জেনে নেই কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুর নেভোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে এবং খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। অনেক সময় কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় না বা আমরা বুঝতে পারি না এক্ষেত্রে শিশুকে বিপদে ফেলে দিই এবং শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে যায়। সুতরাং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শিশুর নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে:
  • নবজাতক বা ৬ মাসের কম বয়সী শিশু হলে এ অবস্থায় দেরী না করে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিন এবং চিকিৎসা শুরু করুন।
  • অসুস্থ বা দুর্বল শিশু হলে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
  • যেসব শিশু অন্য কোনও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত।
  • যেসব শিশু ধূমপানযুক্ত পরিবেশে বাস করে বিশেষ করে শিশুর কোন অভিভাবক যদি ধুমপান করে তাহলে খুব দ্রুত ধূমপাইয়ের কাছ থেকে শিশুকে দূরে সরিয়ে ফেলুন।
  • নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমাতে শিশুদের নিয়মিত টিকা নেওয়া উচিত। পরিশেষে সঠিক সময়ে শিশুর যে টিকা আছে সেটি গুলো নিয়ে নিন এবং শিশুকে ঝুঁকি মুক্ত রাখুন।

উপসংহার:

প্রিয় পাঠক আজ নিউমোনিয়া কেন হয়, লক্ষণ কি এবং প্রতিকার-প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করলাম। আগামীতে অন্য কোন টপিক নিয়ে হাজির হবো। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url