বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন জেনে নিন
ভূমিকা
সুপ্রিয় পাঠক আজকাল অনেকেই অনলাইনে বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন জেনে নিন নিয়ে জানতে চান। আপনিও হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিশ্চয়ই বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন জেনে নিন কি তা জানার জন্যই আমাদের এই জমজম আইটি সাইটটিতে এসেছেন।
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন জেনে নিন তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। চলুন এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে নিচের লেখা গুলো পুরোপুরি পড়ে নিন।
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা বিস্তারিত জেনে নিন
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
- প্রথমত, শিক্ষাগত যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ভালো একাডেমিক রেজাল্ট, যেমন GPA বা CGPA ভালো হলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে IELTS, TOEFL বা অনুরূপ পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ক্ষেত্রে এই স্কোরের মান ভিন্ন হতে পারে।
- তৃতীয়ত, একটি শক্তিশালী Statement of Purpose (SOP) বা Motivation Letter খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে আপনার পড়াশোনার লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কেন আপনি স্কলারশিপের জন্য উপযুক্ত এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হয়। চতুর্থত, ভালো Recommendation Letter দরকার হয়, যা শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি দিয়ে থাকেন।
এছাড়া সহশিক্ষা কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, গবেষণার অভিজ্ঞতা বা লিডারশিপ স্কিল থাকলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়। কিছু স্কলারশিপে আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়, আবার কিছু স্কলারশিপ মেধাভিত্তিক হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সঠিকভাবে আবেদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, আগেভাগে প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া কঠিন নয়। পরিকল্পিতভাবে এগোলে শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের স্বপ্নের দেশে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারে।
বিদেশে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ বিস্তারিত জেনে নিন
বিদেশে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ বলতে এমন বৃত্তিকে বোঝায় যেখানে পড়াশোনার সব খরচ টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানের ভাড়া ও কখনও কখনও মাসিক ভাতা সম্পূর্ণ বা প্রায় পুরোপুরি কভার করে দেয়া হয়। এই ধরনের স্কলারশিপ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া যায়, এবং মেধা, নেতৃত্ব ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়।
স্কলারশিপের ধরন ও সুযোগ:
১) জাপান সরকারের MEXT স্কলারশিপ, জার্মানির DAAD, চীনের CSC প্রভৃতি সরকারি প্রোগ্রাম টিউশন ফি, থাকার খরচ ও অন্যান্য ব্যয় দেয়।
২) যুক্তরাজ্যের Chevening, ইউরোপের Erasmus Mundus বা Commonwealth স্কলারশিপগুলোতে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ফুল-ফান্ডেড সুযোগ থাকে।
৩) যুক্তরাষ্ট্রে Fulbright বা কিছু বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক স্কলারশিপও সব খরচ কভার করে।
যোগ্যতা ও প্রস্তুতি:
- ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পেতে সাধারণত ভাল একাডেমিক রেজাল্ট (উচ্চ GPA) থাকতে হয় এবং প্রায়শই ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার স্কোর (IELTS/TOEFL) দরকার হয়।
- Statement of Purpose (SOP), Recommendation Letter (LOR) ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য শক্তিশালী প্রোফাইল থাকলে আবেদন আরও সফল হয়।
- অনেক স্কলারশিপে আবেদনের ডেডলাইন ও প্রক্রিয়া আগে থেকে দেখে সঠিক সময়ে আবেদন করা জরুরি।
বিদেশে পড়াশোনার খরচ বিস্তারিত জেনে নিন
বিদেশে পড়াশোনার খরচ জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ দেশভেদে, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ও বিষয়ভেদে পড়াশোনার মোট ব্যয় অনেকটাই ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত বিদেশে পড়াশোনার খরচ কয়েকটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায় টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, স্বাস্থ্য বীমা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ।
- প্রথমত, টিউশন ফি হলো সবচেয়ে বড় খরচ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বছরে টিউশন ফি সাধারণত ৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
- ইউরোপের কিছু দেশে যেমন জার্মানি, নরওয়ে বা ফ্রান্সে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে কম বা কখনও কখনও প্রায় ফ্রি হয়।
- দ্বিতীয়ত, থাকা-খাওয়ার খরচ দেশ ও শহরের ওপর নির্ভর করে। উন্নত দেশে মাসিক ৬০০ থেকে ১,২০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
- এর মধ্যে ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকলে খরচ কিছুটা কম হতে পারে।
- তৃতীয়ত, যাতায়াত ও ভিসা সংক্রান্ত খরচ রয়েছে। বিমান টিকিট, ভিসা ফি ও স্বাস্থ্য বীমার জন্য এককালীন ভালো অঙ্কের টাকা লাগতে পারে।
- এছাড়া বই, স্টাডি ম্যাটেরিয়াল ও ব্যক্তিগত খরচও বিবেচনায় রাখতে হয়।
তবে স্কলারশিপ, পার্ট-টাইম জব ও ফান্ডিং সুবিধা পেলে বিদেশে পড়াশোনার খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা ও আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করলে শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের বাজেট অনুযায়ী বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
hsc এর পর বিদেশে পড়াশোনা - এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা
এইচএসসি (HSC) শেষ করার পর বিদেশে পড়াশোনা করা বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক গবেষণা সুবিধা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকার কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এইচএসসির পর সাধারণত শিক্ষার্থীরা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য বিদেশে আবেদন করে থাকে।
- এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রথমে পছন্দের দেশ ও বিষয় নির্বাচন করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও চীন এই ক্ষেত্রে জনপ্রিয় গন্তব্য। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের ভর্তি শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হয়। সাধারণত এইচএসসির রেজাল্ট, মার্কশিট, সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও শিক্ষাগত ট্রান্সক্রিপ্ট প্রয়োজন হয়।
- ইংরেজি ভাষাভিত্তিক দেশে পড়াশোনার জন্য IELTS বা TOEFL স্কোর চাওয়া হয়। কিছু দেশে ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম বা প্রিপারেটরি কোর্সের সুযোগ রয়েছে, যেখানে কম স্কোর থাকলেও ভর্তি হওয়া সম্ভব। এছাড়া Statement of Purpose (SOP), Recommendation Letter এবং CV অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনার খরচ দেশভেদে ভিন্ন হয়। টিউশন ফি ও থাকা-খাওয়ার খরচ মিলিয়ে বছরে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হতে পারে। তবে বিভিন্ন স্কলারশিপ, টিউশন ফি ডিসকাউন্ট ও পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ থাকায় খরচ অনেকটাই সামলানো যায়।
সঠিক পরিকল্পনা, আগেভাগে প্রস্তুতি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা করা সম্ভব। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার বড় সুযোগ।
ssc এর পর বিদেশে পড়াশোনা বিস্তারিত জেনে নিন
এসএসসি (SSC) শেষ করার পর বিদেশে পড়াশোনা করা এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ। কম বয়সেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ, আধুনিক কারিকুলাম এবং বৈশ্বিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এসএসসির পর বিদেশে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সাধারণত এসএসসি শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা ফাউন্ডেশন কোর্স, ডিপ্লোমা, O-Level/A-Level সমমানের প্রোগ্রাম অথবা প্রি-ইউনিভার্সিটি কোর্সে ভর্তি হয়।
- এসএসসির পর বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রথম ধাপ হলো সঠিক দেশ ও প্রোগ্রাম নির্বাচন করা। মালয়েশিয়া, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য।
- এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি যোগ্যতা, কোর্সের সময়কাল ও খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি।
- ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে IELTS বা অন্যান্য ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। তবে কিছু দেশে বা প্রতিষ্ঠানে ভাষা প্রস্তুতি কোর্সের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে।
- এছাড়া এসএসসির সার্টিফিকেট, মার্কশিট, পাসপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অভিভাবকের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দিতে হয়।
খরচের দিক থেকে এসএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, ভিসা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ভালো অঙ্কের অর্থ লাগে। তবে আংশিক স্কলারশিপ, ডিসকাউন্ট ও কিছু দেশে সীমিত পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ খরচ কমাতে সাহায্য করে।
স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা বিস্তারিত জেনে নিন
স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। উচ্চ খরচের কারণে অনেকেই বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী হলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার জন্য পিছিয়ে যায়। স্কলারশিপ এই বাধা দূর করে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের স্কলারশিপ প্রদান করছে।
- স্কলারশিপ সাধারণত মেধাভিত্তিক, আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক ও বিশেষ বিষয়ভিত্তিক হয়ে থাকে। কিছু স্কলারশিপে শুধু টিউশন ফি মওকুফ করা হয়, আবার কিছু ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্য বীমা এমনকি মাসিক ভাতাও দেওয়া হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের Fulbright, যুক্তরাজ্যের Chevening, ইউরোপের Erasmus Mundus, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এবং জাপানের MEXT স্কলারশিপ বিশ্বজুড়ে খুবই জনপ্রিয়।
- স্কলারশিপ পেতে ভালো একাডেমিক রেজাল্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি IELTS বা TOEFL-এর মতো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়।
- একটি শক্তিশালী Statement of Purpose (SOP), ভালো Recommendation Letter এবং পরিষ্কার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য থাকলে আবেদন আরও গ্রহণযোগ্য হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে লিডারশিপ দক্ষতা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী কাজও মূল্যায়ন করা হয়।
স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার সময় ডেডলাইন মেনে চলা ও সঠিক তথ্য প্রদান করা জরুরি। একাধিক স্কলারশিপে একসাথে আবেদন করলে সুযোগ বাড়ে। সবশেষে বলা যায়, নিয়মিত খোঁজখবর, ধৈর্য ও সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করা সম্ভব এবং এটি একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিদেশে পড়াশোনা করে লাভ কি কি বিস্তারিত জেনে নিন
বিদেশে পড়াশোনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ও লাভ অর্জন করতে পারে। নিচে বিদেশে পড়াশোনা করে পাওয়া প্রধান লাভগুলো তুলে ধরা হলো:
১) আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা:
- উন্নত কারিকুলাম, আধুনিক ল্যাব ও গবেষণা সুবিধার মাধ্যমে উচ্চমানের শিক্ষা লাভ করা যায়।
২) গ্লোবাল ডিগ্রির স্বীকৃতি:
- বিদেশি ডিগ্রি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হওয়ায় চাকরির বাজারে মূল্য বেশি থাকে।
৩) ভালো ক্যারিয়ার সুযোগ:
- দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৪) ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি:
- ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা তৈরি হয়।
৫) আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা:
- ভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিবেশে পড়াশোনার মাধ্যমে মানসিক ও সামাজিক দক্ষতা বাড়ে।
৬) ব্যক্তিত্ব বিকাশ:
- আত্মবিশ্বাস, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্ব গুণ উন্নত হয়।
৭) গবেষণা ও প্রযুক্তি সুবিধা:
- আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
৮) নেটওয়ার্ক তৈরি:
- বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
৯) উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা:
- বিদেশি ডিগ্রিধারীদের বেতন সাধারণত তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।
১০) ভবিষ্যৎ স্থায়ী হওয়ার সুযোগ:
বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন
১. ডকুমেন্ট যাচাই ও সংশোধন
জন্মসনদ, এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স/মাস্টার্স সার্টিফিকেটে নিজের ও পিতামাতার নামের বানান ভোটার আইডি, জন্মসনদ ও সার্টিফিকেটে মিলিয়ে নিন।যদি কোনো ভুল থাকে, সংশোধন অবশ্যই ১ বছর আগেই শুরু করুন, কারণ এটি সময়সাপেক্ষ।
২. পাসপোর্ট প্রস্তুত পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা সবকিছু জন্মসনদ ও সার্টিফিকেটের সাথে মিলিয়ে তৈরি করুন।পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে তা নবায়ন করুন এবং তথ্য হালনাগাদ করুন।
৩. একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহ এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স/মাস্টার্সের মূল সার্টিফিকেট ও নম্বরপত্র বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করুন।দুই সেট ফটোকপি নোটারি পাবলিক দিয়ে সত্যায়িত করুন।
৪. মন্ত্রণালয় সত্যায়ন (যদি দরকার হয়) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একাডেমিক কাগজপত্র এটেস্টেশন করিয়ে রাখুন।কিছু দেশে ভেরিফিকেশন ছাড়া আবেদন গ্রহণ করে না।
৫. ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতি (IELTS/TOEFL) আইইএলটিএস/টফেল পরীক্ষার প্রস্তুতি কমপক্ষে ৬-৯ মাস আগে শুরু করুন।কাঙ্খিত স্কোর (যেমন 6.5+/7.0+) পেতে প্রয়োজনে কোচিং বা প্রাইভেট টিউটর নিন।
৬. স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট (SAT, GRE, GMAT) প্রস্তুতি SAT/ACT: আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য।GRE/GMAT: মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।সময়মতো প্রস্তুতি নিয়ে স্কোর নিশ্চিত করুন।
৭. রেকমেন্ডেশন লেটার (LOR) যেসব শিক্ষক বা সুপারভাইজার আপনাকে ভালো জানেন, তাদের কাছ থেকে ২-৩টি রিকমেন্ডেশন লেটার আগেই সংগ্রহ করুন।অফিসিয়াল প্যাডে সাইন ও স্ট্যাম্পসহ লেখা থাকতে হবে।
৮. স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (SOP) লেখার প্রস্তুতি SOP লেখা শুরু করুন কমপক্ষে ৬ মাস আগে।নিজের একাডেমিক পটভূমি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কেন ঐ দেশ/বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন এসব পরিষ্কারভাবে লিখুন।একাধিক ড্রাফট বানিয়ে সিনিয়র, মেন্টর বা কনসালট্যান্ট দিয়ে রিভিউ করিয়ে নিন।
৯. সাবজেক্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন আপনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও আগ্রহের সাথে মিলে এমন ৫-১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বেছে নিন।প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন রিকয়ারমেন্ট, স্কলারশিপ অপশন ও আবেদন ডেডলাইন ভালোভাবে রিসার্চ করুন।
১০. ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং ও বাজেটিং পড়াশোনার খরচ (টিউশন ফি, অ্যাকমোডেশন, জীবনযাপন) ও ভিসা প্রসেসিং খরচ মিলিয়ে বাজেট তৈরি করুন।ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রস্তুত রাখুন (ভিসার জন্য প্রয়োজন)স্পন্সর থাকলে, তার নির্ভরযোগ্যতা ও ব্যাংক ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন।
১১. ভলান্টিয়ারিং ও এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস ইউনিভার্সিটির স্কলারশিপ বা ভিসা আবেদন সহজ করতে ভলান্টিয়ার ও সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা জোগাড় করুন।এর প্রমাণস্বরূপ সার্টিফিকেট/লেটার সংগ্রহ করুন।
১২. রান্না শেখা বাইরে যাওয়ার আগে নিজের জন্য সহজ রান্না শিখে নিন – যেমন ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, নুডুলস।হোস্টেলে বা শেয়ার্ড অ্যাপার্টমেন্টে রান্না একান্ত দরকারি।
১৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স দেশে ড্রাইভিং শিখে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে রাখুন।চাইলে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP) সংগ্রহ করতে পারেন।
১৪. কম্পিউটার স্কিল ডেভেলপমেন্ট Microsoft Word, Excel, PowerPoint, Google Docs, Zoom ইত্যাদিতে দক্ষতা অর্জন করুন। চাইলে কোর্স করে সার্টিফিকেট নিয়ে রাখুন।প্রেজেন্টেশন, এসাইনমেন্ট ও গ্রুপ ওয়ার্কে এসব খুব কাজে লাগবে।
১৫. অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ও ইমেইল হ্যান্ডলিং স্কিল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারার মতো দক্ষতা অর্জন করুন। Gmail ব্যবহার, পিডিএফ বানানো, ফাইল কমপ্রেস করা, ফর্ম ফিলআপ, Google Drive ব্যবহারে অভ্যস্ত হোন।
১৬. আবেদন ও ভিসা ডেডলাইনের ট্র্যাক রাখা প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লিকেশন ডেডলাইন, স্কলারশিপ ডেডলাইন ও ভিসা টাইমলাইনের জন্য একটা গুগল শিট বা নোটবুক রাখুন।সময় মতো ফাইল সাবমিশন নিশ্চিত করুন।
১৭. একাডেমিক পোর্টফোলিও বানানো (বিশেষ করে মাস্টার্সের জন্য) নিজের সব একাডেমিক কাগজপত্র, কোর্সওয়ার্ক, প্রজেক্ট, রিসার্চ এক জায়গায় সাজিয়ে রাখুন।
উপসংহার
আজ আমরা বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন জেনে নিন নিয়ে আলোচনা করলাম। আগামীতে ভালো কোনো টপিক নিয়ে হাজির হবো। আশা করছি উপরের বিদেশে পড়াশোনা করার ১ বছর আগের প্রস্তুতির পূর্ণ গাইডলাইন জেনে নিন বিষয়ে আলোচনা আপনার ভালো লেগেছে। যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানান । আমাদের ফলো করে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।


জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url