বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ বিস্তারিত জেনে নিন

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক আপনি অনেক খোঁজাখুজির পর নিশ্চয়ই বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ কি তা জানার জন্যই আমাদের এই সাইটটিতে এসেছেন।
বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ বিস্তারিত জেনে নিন
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ নিয়ে আলোচনা করব। এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।

শিশু কত বছর বয়স পর্যন্ত বিস্তারিত জেনে নিন

শিশু হল মানুষ জীবনের সেই পর্যায়, যখন শরীর ও মন বিকাশের প্রাথমিক ধাপ চলছে। সাধারণভাবে শিশু বলা হয় জন্ম থেকে প্রায় ১২ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময়কালে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ, সামাজিক ও মানসিক ক্ষমতা দ্রুত বাড়ে। 
  • শিশু পর্যায়কে আরও ভাগ করা যায় শিশুকাল (০–৫ বছর), প্রাথমিক শিশু (৬–৮ বছর) এবং বড় শিশু (৯–১২ বছর)।
  • শিশুদের এই পর্যায়ে শিক্ষা, খেলা, সামাজিক শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। 
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম ও ভালো পরিবেশ শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক। 
  • ১২ বছরের পর শিশু ধীরে ধীরে কৈশোরে প্রবেশ করে, যেখানে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আরও দ্রুত হয়। তাই শিশুকালকে সঠিকভাবে সমর্থন ও যত্ন দেওয়া জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।
আমাদের দেশের বিদ্যমান অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু আইন অনুযায়ী অনুর্ধ্ব ১৮ (আঠার) বছর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসাবে গণ্য হইবে।

বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ

বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ
বাচ্চাদের বিকাশ একটিমাত্র ধাপে হয় না; এটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগত দিক থেকে ধাপে ধাপে ঘটে। বয়স অনুযায়ী সাধারণভাবে বিকাশের আচরণ নিম্নরূপ ভাগ করা যায়:
১. নবজাতক ও শিশু (০–২ বছর)
  • শারীরিক: মাথা ধরা, বসা, হাঁটতে শেখা
  • মানসিক: মূলত অনুভূতি ও নিরাপত্তা প্রাধান্য পায়
  • সামাজিক: মা-বাবার সঙ্গে আবদ্ধতা, হাসি ও কান্নার মাধ্যমে যোগাযোগ
  • ভাষা: প্রথম শব্দ ও সাধারণ শব্দ উচ্চারণ
২. ছোট শিশু (৩–৫ বছর)
  • শারীরিক: চলাফেরা আরও মসৃণ, খেলাধুলায় সক্রিয়
  • মানসিক: কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি, নিজের ইচ্ছা প্রকাশ
  • সামাজিক: বন্ধুবান্ধব তৈরি, ভাগাভাগি শেখা
  • ভাষা: বাক্য গঠন, গল্প বলা শুরু
৩. বড় শিশু (৬–১২ বছর)
  • শারীরিক: শক্তিশালী পেশী, স্থায়ী দাঁত বৃদ্ধি
  • মানসিক: সমস্যা সমাধান, স্কুলের কাজের প্রতি মনোযোগ
  • সামাজিক: বন্ধুত্ব ও দলবদ্ধ আচরণ
  • ভাষা: পড়া-লেখা ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার
এই বিকাশের ধাপ অনুযায়ী অভিভাবকরা শিশুর মনোযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক চর্চা সমর্থন করতে পারেন।
শিশুদের উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য হলো-
  • প্রতিটি শিশু এক নয়। প্রত্যেক শিশুই অপর শিশু থেকে আলাদা।
  •  শিশুদের পছন্দ, চাহিদা ও শিখনের ধরন আলাদা আলাদা হয়, যা মূলত গড়ে ওঠে তার বেড়ে ওাা পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
  •  শিশু আদর ও ভালোবাসা পেতে এবং বড়দের কাছে গ্রহণীয় হতে চায়।
  • শিশুরা অনুসন্ধিৎসু হয়। ফলে তারা নানা বিষয়ে অনেক প্রশ্ন করে জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করে।
  •  নানা রকম কাজ, অভিজ্ঞতা ও কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে নিজস্ব সত্তাকে প্রকাশ করতে পছন্দ করে।
  •  শিশু নিজের মত করে পৃথিবীকে দেখে, বড়দের মত করে নয়। তারা কল্পনা প্রবণ। শিশু কল্পনা এবং বাস্ত বের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনা।
  •  শিশু নিজেকে হাতি, ঘোড়া, ভালুক, প্রভৃতি কল্পনা করে। খেলার ভিতর দিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বের উপর নানা রকম অভিজ্ঞতা যুক্ত করে।

শিশু এবং বয়সভেদে শিশুর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য

শিশু হলো জন্ম থেকে কৈশোরের আগে পর্যন্ত মানুষ, যার বিকাশ শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগতভাবে ঘটে। বয়সভেদে শিশুর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়।
নবজাতক ও ১–২ বছর: শিশু প্রধানত অনুভূতি ও নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। তারা কান্না, হাসি বা হাত-পা আন্দোলনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। শারীরিকভাবে বসা, হেঁটে চলা শেখে।
৩–৫ বছর: কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়। নিজের ইচ্ছা প্রকাশ, খেলাধুলায় সক্রিয়তা ও বন্ধুত্বের সূচনা দেখা যায়। ভাষাগত বিকাশে বাক্য গঠন ও গল্প বলা শুরু হয়।
৬–১২ বছর: শিশুতে মানসিক স্থিতিশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সামাজিক বন্ধুত্ব ও দলবদ্ধ আচরণ দেখা যায়। শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হয়।
এই ধাপে ধাপে বিকাশ শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • নানা রকম রূপকথার গল্প, ছেলে ভুলানোর ছড়া ইত্যাদি শুনতে খুবই ভালোবাসে। এগুলো শিশুর কল্পনাকে সমৃদ্ধ করে।
  • শিশু তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বোঝার চেষ্টা করে। অন্যের কাজকে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করে।
  •  বিশ্ব জগতের অধিকাংশ সামগ্রীকে সে জীবন্ত মনে করে, কারণ অন্যান্য প্রাণি ও ব¯‘র মধ্যে সে নিজের মনের অনুভ‚তি ও আবেগ আরোপ করে।
  •  সাধারণত কোনো কিছুতে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
  •  খেলে এবং নানারকম কাজ করে শেখে।
  • আত্মকেন্দ্রিক হয়। তার চিন্তা-ভাবনা নিজেকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।
  •  সহজে ভাষা আয়ত্ব করে।
  •  আমিত্ববোধের সৃষ্টি হয়।
  • প্রচলিত আচার-আচরণ, রীতিনীতির ও সংস্কারের প্রতি সাধারণ বিশ্বাস ও আনুগত্যের সঞ্চার হয়।
  •  বয়ঃসন্ধিকালে অন্যের সঙ্গে নিজের মনোভাবের দ্ব›দ্ব সৃষ্টি হয়। যার ফলে মনে বিদ্রোহের ভাব সৃষ্টি হয়।
  •  শিশুরা চঞ্চল ও প্রাণবন্ত। তাই ছুটাছুটি, লাফ-ঝাপ, দাপাদাপি অধিক পরিমাণে করে।
  •  শিশু তার স্বভাবসুলভ কারণেই চারপাশের পরিবেশকে আবিষ্কার করতে চায়। পরিবারের সীমান ছাড়িয়ে বিদ্যালয়ে, খেলার মাঠে এবং বন্ধু বান্ধবের দলে নেতৃত্ব দান করে। ফলে সে বহির্ম‚খী জীবনের স্বাদ পায়।
  •  শিশুরা আনন্দপ্রিয় হয়। তারা নানা আনন্দজনক কাজ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে ও যুক্ত হতে পছন্দ করে।
  •  খেলা ও খেলনা বেশি পছন্দ করে। খেলাই শিশুর প্রধান কাজ এবং খেলার মাধ্যমে শিখতে পছন্দ করে।
  • আপনার শিশুরা কৌতুহলী হয়। তার স্বভাবসুলভ কারণেই বিভিন্ন বিষয়ে নানা ধরনের প্রশ œকরে জানার ও বোঝার চেষ্টা করে।
  • অনুকরণ প্রিয়। তারা তাদের চারপাশের বড়দের ও সঙ্গীদলের সদস্যদের অনুকরণ করে শিখে।

বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের ওজনের তালিকা বিস্তারিত জেনে নিন

শিশুর ওজন তার স্বাস্থ্য ও বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বয়স অনুযায়ী গড় ওজন সাধারণভাবে নিম্নরূপঃ
নবজাতক (জন্ম): ২.৫–৩.৫ কেজি
১ মাস: ৩–৪ কেজি
৩ মাস: ৫–৬ কেজি
৬ মাস: ৭–৮ কেজি
১ বছর: ৯–১১ কেজি
২ বছর: ১২–১৪ কেজি
৩ বছর: ১৪–১৬ কেজি
৪ বছর: ১৬–১৮ কেজি
৫ বছর: ১৮–২০ কেজি
৬ বছর: ২০–২২ কেজি
এই ওজন সূচক গড় মান, যা শিশুর লিঙ্গ, শারীরিক গঠন ও পুষ্টির উপর নির্ভর করে।
অভিভাবকরা শিশুর ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য ও বিকাশ ঠিক রাখতে পারেন।
অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা হ্রাস দেখা দিলে পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিক ওজন শিশুর শারীরিক, মানসিক ও শিক্ষাগত বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের ওজনের তালিকা

বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ

বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ – বিস্তারিত জেনে রাখুন-বাচ্চাদের বিকাশ ধাপে ধাপে ঘটে এবং বয়স অনুযায়ী তাদের আচরণ ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়।
নবজাতক ও ১–২ বছর: 
  • শিশুর প্রধান আচরণ হলো নিরাপত্তা ও আবেগের প্রতি নির্ভরশীলতা। তারা কান্না, হাসি বা হাত-পা নাড়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করে। শারীরিকভাবে বসা, গলা ধরা ও প্রথম শব্দ উচ্চারণ শেখে।
৩–৫ বছর: 
  • কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়। শিশুর আচরণে খেলাধুলা, নিজের ইচ্ছা প্রকাশ এবং সামাজিক বন্ধুত্বের সূচনা দেখা যায়। তারা ছোট বাক্য গঠন ও গল্প বলার চেষ্টা করে।
৬–১২ বছর: 
  • শিশুর মানসিক স্থিতিশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সামাজিকভাবে বন্ধুত্ব ও দলবদ্ধ আচরণ তৈরি হয়। তারা বিদ্যালয়ে মনোযোগী হয় এবং নিয়ম মেনে চলতে শেখে।
বয়স অনুযায়ী বিকাশের এই ধাপগুলো শিশুর শারীরিক, মানসিক, ভাষাগত ও সামাজিক ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
১ মাস
  • একটি নবজাতক শিশুর জন্য ঘুম একটি অতি পরিচিত শব্দ। 
  • শিশুর প্রথম এক মাস বয়সে বেশির ভাগ সময় শিশু ঘুমিয়ে কাটিয়ে থাকে। 
  • এর চেয়ে বেশিকিছু করা শিশুর আয়ত্তে থাকে না। 
  • কিন্তু কিছু ব্যাপার শিশুর এক মাস বয়সেই করা উচিত। যেমন- গালে বা মাথায় হাত বোলালে সেদিকে মাথা ঘোরানো, উভয় হাত মুখের দিকে আনা, পরিচিত গলার আওয়াজ বা শব্দ শুনলে সেদিকে ঘোরা, স্তন চোষা এবং হাত দিয়ে ছোঁয়া। 
  • এ সকল কিছু প্রতিটি শিশুর এই বয়সে করতে পারা উচিত।
১ মাস থেকে দেড় মাস বা ৪৫ দিন
  • শিশু বুঝে, হাসতে শেখে। 
  • ঘুমের মধ্যে বা অকারণে হাসা শিশুরা জন্ম থেকেই করে। 
  • কিন্তু পরিচিত মুখ দেখে বা শব্দ শুনে, বুঝে হাসতে শেখা দেরি হলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
৩ মাস
  • নরম ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। ঘাড় সোজা করে, মাথা ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক দেখতে শিখে। 
  • দেরি হলে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। 
  • ছোট ছোট অনুকরণ করতে পারে। 
  • যেমন- কেউ জিহ্বা বের করলে সেও বের করে।
৫ মাস
  • সাপোর্ট দিলে বসতে পারে। 
  • একা একা কয়েক সেকেন্ড পরেই ডান বা বামে ঢলে পড়ে।
৬-৭ মাস
  • নাম ডাকলে সারা দেয়। 
  • ৭ মাস-একা বসে তবে পিঠ সোজা করে বসতে পারে না। 
  • সামনে কোনো জিনিস ধরলে হাত বাড়ায়, ধরে। 
  • ফেরত চাইলে দিয়েও দেয়। 
  • মুখে শব্দ করা শিখে। 
  • বাব্ বাব্ কিংবা দাদ্, দাদ্ বলে। 
  • আপন-পর বুঝতে শিখে।
৮ মাস
  • সোজা করে বসতে শিখে। 
  • চিৎ থেকে উপুড় এবং উপুড় থেকে সোজা হতে পারে। 
  • হাত তালি দিতে শিখে।
৯-১০ মাস
  • হামাগুঁড়ি দেয়। 
  • জিনিস ধরে দাঁড়াতে শিখে। 
  • পরিষ্কার শব্দ বলা শুরু করে। 
  • বাই বাই করতে শেখে।
১১-১২ মাস
  • নিজে নিজে মুখে খাবার দিতে চেষ্টা করে। তর্জুনি বা বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যবহার করে মুড়ি বা ছোলার মতো বস্তু ধরার চেষ্টা করে। 
  • কোনোকিছুর প্রতি নির্দেশ করতে পারে। 
  •  হাত ধরলে হাঁটতে পারে।
১৮ মাস
  • একা কয়েক ধাপ হাঁটতে পারে। 
  • ২ শব্দের বাক্য বলতে পারে।
২৪ মাস
  • শব্দভাণ্ডার ১০০ এর বেশি হয়। দুই বা তিন শব্দের বাক্য বলে। 
  • ৪টি কিউব দিয়ে টাওয়ার বানাতে পারে। 
  • বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে পারে।
৩ বৎসর
  • সাচ্ছন্দ্যে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে। 
  • নিজে নিজে পোশাক পরার চেষ্টা করে। 
  • ছেলে বা মেয়ে হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে। 
  • ছোট ছোট গল্প বলতে পারে।
৪-৫ বৎসর
  • পরিবেশ থেকে সবকিছু শিখতে চায়। 
  • ভালো-মন্দ আলাদা করতে পারে । 
  • সমবয়সীদের সঙ্গে খেলতে পারে। 
  • প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারে, সংখ্যা চিনতে শিখে।
শিশুর বিকাশ ও শিখন আচরণ (তথ্যপুস্তক) এখান খেকে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। ডাউনলোডে জন্য এখানে চাপ দিন

বাচ্চারা কত মাসে বসে বিস্তারিত জেনে নিন

বাচ্চারা সাধারণত 6-8 মাস বয়সে বসে। তবে, কিছু শিশু 4-5 মাস বয়সেই বসতে শুরু করতে পারে, আবার কিছু শিশু 10 মাস বয়সেও বসতে পারে। বাচ্চাদের বসার সময় নির্ভর করে তাদের শারীরিক বিকাশ, পেশীর শক্তি এবং সমন্বয়ের উপর।
শিশু এবং বয়সভেদে শিশুর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য

বাচ্চারা বসার আগে নিম্নলিখিত দক্ষতাগুলো অর্জন করে:
  • মাথা উঁচু করে ধরা
  • বুক উঁচু করে ধরা
  • হাতে ভর দিয়ে মাথা তুলে বসা
  • হেলান দিয়ে বসা
বাচ্চারা যখন প্রথমে বসে, তখন তারা সাধারণত ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হয়। তারা প্রায়ই হঠাৎ করে হেলে পড়ে। তবে, ধীরে ধীরে তাদের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
বাচ্চাদের বসার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
  • আপনার বাচ্চাকে সোজা করে শুইয়ে দিন এবং তার পায়ে ভর দিয়ে মাথা তুলতে সাহায্য করুন।
  • বাচ্চাকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিন এবং তার হাত ধরে রাখুন।
  • আপনার বাচ্চাকে আপনার কোলে বসিয়ে দিন এবং তার হাত ধরে রাখুন।
বাচ্চারা বসার সাথে সাথে তাদের চারপাশের জগত সম্পর্কে জানতে শুরু করে। তারা তাদের হাত দিয়ে জিনিসপত্র ধরতে এবং খেলতে শুরু করে।

বাচ্চারা উপুড় হয় কত মাসে বিস্তারিত জেনে নিন

বাচ্চারা সাধারণত 3-4 মাস বয়সে উপুড় হতে শুরু করে। তবে, কিছু শিশু 2 মাস বয়সেই উপুড় হতে পারে, আবার কিছু শিশু 6 মাস বয়সেও উপুড় হতে পারে। বাচ্চাদের উপুড় হওয়ার সময় নির্ভর করে তাদের শারীরিক বিকাশ, পেশীর শক্তি এবং সমন্বয়ের উপর।
১. শিশুর প্রাথমিক বিকাশে উপুড় হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
২. উপুড় হওয়া মানে শিশু নিজের পিঠ থেকে পেটের দিকে বা উল্টো দিকে ঘুরতে সক্ষম হওয়া।
৩. সাধারণভাবে শিশু ৪–৬ মাসের মধ্যে উপুড় হওয়া শুরু করে।
৪. এটি শারীরিক শক্তি ও পেশী বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
৫. পিঠের পেশী ও পেটের পেশীর সমন্বয় শিশুকে উপুড় হওয়ায় সাহায্য করে।
৬. ৪ মাসের আগে কিছু শিশু সামান্য ঘুরতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পায় না।
৭. ৫–৬ মাসের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু নিজের পিঠ থেকে পেটের দিকে ঘুরতে সক্ষম হয়।
৮. কিছু শিশু ৭–৮ মাস পর্যন্ত এই ধাপ দেরিতে পারে, যা স্বাভাবিক।
৯. উপুড় হওয়া শিশুর মোটর স্কিল ও শক্তি বৃদ্ধির সূচক।
১০. অভিভাবকরা শিশুর নিরাপত্তার জন্য সমতল ও নিরাপদ স্থানে রাখুন।
১১. পেছনের দিকে ঘুরে পড়া বা কোনও কঠিন জায়গায় মুখ খারাপ হতে পারে।
১২. শিশুর বিকাশ ধাপে ধাপে হয়, তাই তুলনা করা উচিত নয়।
১৩. খেলনা বা প্রেরণা দিয়ে শিশুকে উপুড় হওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া যায়।
১৪. নিয়মিত সময়ে শিশুর এই ধাপ পর্যবেক্ষণ করা ভালো।
১৫. উপুড় হওয়া শিশুর আগাম শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

প্রিয় পাঠক এই আর্টিকেলে আমরা বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ বিস্তারিত জেনে নিন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। আপনার বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ বিস্তারিত জেনে নিন এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি আবশ্যকতা। এটি শুধুমাত্র আপনার পাঠকদের জন্য একটি জ্ঞান এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে না, বরং বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ বিস্তারিত জেনে নিন অপরিহার্য। তাই, উল্লেখিত টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনার বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের বিকাশের আচরণ বিস্তারিত জেনে নিন ও কার্যকরী রাখুন, যা আজকের ডিজিটাল বিশ্বে আপনার সফলতার পথ প্রশস্ত করবে, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url