সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে
ভূমিকা
সুপ্রিয় পাঠক আজকাল অনেকেই অনলাইনে সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে নিয়ে জানতে চান। আপনিও হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিশ্চয়ই সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে কি তা জানার জন্যই আমাদের এই সাইটটিতে এসেছেন।
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। চলুন এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে নিচের লেখা গুলো পুরোপুরি পড়ে নিন।
সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে
সাধারণ বীমা (General Insurance) হলো একটি চুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবা, যেখানে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে যেকোনো অপ্রত্যাশিত ক্ষয়ক্ষতি যেমন গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্বাস্থ্য সমস্যা বা সম্পদের ক্ষতি পূরণ করা হয়। এটি জীবন বীমার বিপরীতে, যেখানে জীবনহানি বা দীর্ঘমেয়াদি ঘটনাকে কভার করা হয়।
জীবনে অনিশ্চয়তা একটি চিরন্তন সত্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, চুরি বা আগুনের মতো ঘটনা মানুষের সম্পদ ও ব্যবসার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এই অনিশ্চয়তাকে সামাল দিতে বীমা একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। সাধারণ বীমা বা General Insurance এমনই এক ব্যবস্থা যা সম্পদ ও দায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সাধারণ বীমার গুরুত্বঃ
১। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয়: হঠাৎ দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ২। সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে: গাড়ি, ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সুরক্ষিত থাকে।
৩। ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে: বড় ক্ষতির কারণে ব্যবসা যাতে বন্ধ না হয়, সে নিশ্চয়তা দেয়।
৪। আইনি সুরক্ষা দেয়: কিছু বীমা (যেমন মোটর বীমা) আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে সাহায্য করে।
৫। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সহায়ক: ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করে।
সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করেঃ
১। বীমা চুক্তি (Policy): গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি বীমা পলিসি গ্রহণ করেন।
২। প্রিমিয়াম প্রদান: গ্রাহক বীমা কোম্পানিকে একটি নির্ধারিত অঙ্কের টাকা (প্রিমিয়াম) প্রদান করেন। ৩। দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি ঘটলে: বীমা চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, গ্রাহক দাবি (Claim) করেন।
৪। দাবির পর্যালোচনা ও অনুমোদন: কোম্পানি তদন্ত করে, এবং যথাযথ হলে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
উদাহরণঃ আপনি যদি গাড়ির সাধারণ বীমা নেন এবং গাড়ি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বীমা কোম্পানি ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট অংশ বহন করবে। সংক্ষেপে, সাধারণ বীমা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সাধারণ বীমা কি, সাধারণ বীমা কত প্রকার ও কি কি
সাধারণ বীমা এমন একটি বীমা ব্যবস্থা যা জীবন ব্যতীত অন্য সব সম্পদ, দায় বা ঝুঁকির বিরুদ্ধে আর্থিক নিরাপত্তা দেয়। সহজভাবে বললে, সাধারণ বীমা মানে হলো- > ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার সম্পদ, যানবাহন, বাড়ি, মালামাল, স্বাস্থ্য ব্যয় বা আইনি দায়ের ঝুঁকি থেকে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উদাহরণঃ গাড়ি দুর্ঘটনার ক্ষতি পূরণ করতে মোটর বীমা, ঘরে আগুন লাগলে ঘরের বীমা. চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য স্বাস্থ্য বীমা. মালামাল পরিবহনে ক্ষতি হলে মেরিন বীমা. এসবই সাধারণ বীমার আওতাভুক্ত।
সাধারণ বীমার প্রকারভেদঃ সাধারণ বীমাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়ঃ
১. মোটর বীমা (Motor Insuranceঃ ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক যানবাহনের দুর্ঘটনা, চুরি, ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি কভার করে।
২.সম্পত্তি বীমা (Property Insurance)ঃ বাসা, অফিস, কলকারখানার ভবন, যন্ত্রপাতি, মালামাল ইত্যাদির আগুন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চুরির ক্ষতি কভার করে।
৩. মেরিন বীমা (Marine Insurance)ঃ জলপথে পণ্য পরিবহনের সময় ক্ষতির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দেয়।
৪.স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance)ঃ চিকিৎসা ব্যয় বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ বহন করে।
৫. দায় বীমা (Liability Insurance)ঃ তৃতীয় পক্ষের ক্ষতির দায়ভার নেওয়ার বীমা।
৬. শিল্প ও প্রকল্প বীমাঃ বড় প্রকল্প, নির্মাণ, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা শিল্প কারখানার ঝুঁকি কভার করে।
General Insurance List (Categories)
1. Health Insurance (স্বাস্থ্য বীমা)
- Individual Health Insurance
- Family Health Insurance
- Senior Citizen Health Insurance
- Critical Illness Insurance
- Hospital Cash Insurance
- Maternity Insurance
2. Motor Insurance (মোটর বীমা)
- Car Insurance
- Bike/Motorcycle Insurance
- Commercial Vehicle Insurance
- Third Party Liability Insurance
- Comprehensive Motor Insurance
3. Travel Insurance (ভ্রমণ বীমা)
- Domestic Travel Insurance
- International Travel Insurance
- Student Travel Insurance
- Senior Citizen Travel Insurance
4. Home Insurance (বাড়ি বীমা)
- Building Insurance
- Home Content Insurance
- Natural Disaster Insurance (Flood, Storm, Earthquake)
- Fire Insurance
5. Property Insurance (সম্পত্তি বীমা)
- Commercial Property Insurance
- Shop Insurance
- Warehouse Insurance
6. Marine Insurance (সমুদ্র/মেরিন বীমা)
- Marine Cargo Insurance
- Marine Hull Insurance
- Inland Transit Insurance
7. Fire Insurance (আগুন বীমা)
- Standard Fire & Special Perils Policy
- Industrial Fire Insurance
- Residential Fire Insurance
8. Liability Insurance (দায়বদ্ধতা বীমা)
- Public Liability Insurance
- Employer’s Liability Insurance
- Product Liability Insurance
9. Personal Accident Insurance (ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা)
- Individual Personal Accident
- Group Personal Accident
10. Business Insurance (ব্যবসা বীমা)
- SME Business Insurance
- Burglary Insurance
- Machinery Breakdown Insurance
- Workmen Compensation Insurance
সাধারণ বীমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১. আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানঃ যেকোনো হঠাৎ দুর্ঘটনা বা ক্ষতির সময় বীমা একটি বড় আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
২. মানসিক প্রশান্তিঃ জানা থাকে, ক্ষতির ক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দেবে এতে মানসিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
৩.ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাঃ ব্যবসা ক্ষেত্রে ক্ষতি হলে বীমার ক্ষতিপূরণ সেই ব্যবসাকে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
৪.অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিঃ বীমা ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিহীনভাবে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে।
৫. ঋণ গ্রহণে সহায়তাঃ বীমাকৃত সম্পত্তি ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ গ্রহণে সহায়ক।
৬. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা সহজে পুনর্বাসিত হতে পারেন বীমার সহায়তায়।
সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে
সাধারণ বীমার কার্যক্রম কিছু নির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয়ঃ
১. বীমা গ্রহণকারী এবং কোম্পানির মধ্যে চুক্তিঃ বীমা চুক্তিতে উভয় পক্ষের দায়-দায়িত্ব, কভারেজ, প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়।
২. প্রিমিয়াম প্রদানঃ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বীমা গ্রহণকারী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (প্রিমিয়াম) জমা দেন।
৩. ঘটনা সংঘটিত হলে দাবি জানানোঃ চুক্তির আওতাভুক্ত ক্ষতি হলে বীমা গ্রহণকারী কোম্পানিকে জানায় (Claim করে)।
৪. জরিপ ও যাচাই-বাছাইঃ কোম্পানি ক্ষতির প্রকৃতি ও সত্যতা যাচাই করে।
৫. ক্ষতিপূরণ প্রদানঃ প্রমাণিত হলে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণ বীমার বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশে বীমা খাত দ্রুত বাড়ছে। নিচে কিছু পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হলোঃ সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে
বীমা কোম্পানির সংখ্যাঃ বাংলাদেশে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাধারণ বীমা কোম্পানি প্রায় ৪৬টি।
সাধারণ বীমার গ্রোথ রেটঃ বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সাধারণ বীমা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২%।
চাহিদা বৃদ্ধির কারণঃ
দ্রুত নগরায়ন,শিল্পায়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি।সাধারণ বীমা নির্বাচন করার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবেঃ
১. কোম্পানির রেপুটেশন ও লাইসেন্স
২. পলিসির শর্তাবলী (Terms & Conditions)
৩. কভারেজ ও এক্সক্লুশন
৪. প্রিমিয়াম হার
৫. ক্লেইম প্রসেস সহজতা
৬. গ্রাহক সাপোর্টের মান
সাধারণ বীমা বনাম জীবন বীমা পার্থক্য
বিষয় সাধারণ বীমা জীবন বীমা সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে
কভারেজ সম্পদ, দায় বা চিকিৎসা ব্যয় জীবন ও মৃত্যু সংক্রান্ত
সময়কাল স্বল্পমেয়াদি (১ বছর সাধারণত) দীর্ঘমেয়াদি
লাভ/বোনাস নেই অনেক সময় থাকে
প্রিমিয়াম তুলনামূলক কম তুলনামূলক বেশি
উদাহরণ গাড়ি বীমা, স্বাস্থ্য বীমা লাইফ ইনস্যুরেন্স
বিশেষ কিছু সাধারণ বীমা কোম্পানি (বাংলাদেশ)
১. Sadharan Bima Corporation (সরকারি)
২. Green Delta Insurance
৩. Pioneer Insurance
৪. Reliance Insurance
৫. City General Insurance
৬. Asia Insurance
৭. Pragati Insurance
৮. Nitol Insurance
৯. Islami Insurance
১০. Bangladesh General Insurance Co. Ltd
সাধারণ বীমা নিয়ে কিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা
বীমা শুধুই ধনী মানুষের জন্য।
ক্ষতিপূরণ পাওয়া কঠিন বা অসম্ভব।
সব ধরনের ক্ষতি কভার করে।
সরকারি হাসপাতাল থাকলে স্বাস্থ্য বীমার দরকার নেই।
বাস্তবতাঃ সাধারণ বীমা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। বীমা ক্লেইম নিয়ম মেনে করলে ক্ষতিপূরণ সহজেই পাওয়া যায়।
সাধারণ বীমা গ্রহণে জনগণকে সচেতন করতে করণীয়
গণমাধ্যমে প্রচার, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বীমা শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি, সহজ ভাষায় বীমা পলিসি প্রণয়ন, কম খরচে সহজ বীমা প্যাকেজ, গ্রামীণ অঞ্চলে বীমা পৌঁছে দেওয়া। সাধারণ গ্রহণে জনগণকে সচেতন করতে নিচের করণীয়গুলো গ্রহণ করা উচিতঃ
১। সঠিক তথ্য প্রচার: গ্রহণের সময় ও প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।
২। গুজব প্রতিরোধ: কুসংস্কার বা ভয়ভীতি থেকে বিরত রাখতে ভুল ধারণা ও গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক বার্তা দিতে হবে।
৩। স্কুল-কলেজে শিক্ষা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রহণ সংক্রান্ত পাঠ অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানানো।
৪।চোখ রক্ষা: সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সুরক্ষিত চশমা বা ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দিতে হবে।
৫। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: গর্ভবতী নারীদের জন্য করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিতে হবে, যদিও অনেক কিছুই কুসংস্কার নির্ভর।
৬। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ: পোস্টার, লিফলেট, ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো।
৭। ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ত করা: তারা যেন কুসংস্কার দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এই করণীয়গুলো গ্রহণ করলে সাধারণ গ্রহণ নিয়ে অহেতুক ভয় না পেয়ে মানুষ সচেতনভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে।
উপসংহার
আজ আমরা সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে নিয়ে আলোচনা করলাম। আগামীতে ভালো কোনো টপিক নিয়ে হাজির হবো। আশা করছি উপরের সাধারণ বীমা কি, এর গুরুত্ব এবং সাধারণ বীমা কিভাবে কাজ করে বিষয়ে আলোচনা আপনার ভালো লেগেছে। যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানান । আমাদের ফলো করে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।


জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url