শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
ভূমিকা
সুপ্রিয় পাঠক আজকাল অনেকেই অনলাইনে শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা নিয়ে জানতে চান। আপনিও হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিশ্চয়ই শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা কি তা জানার জন্যই আমাদের এই জমজম আইটি সাইটটিতে এসেছেন।
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। চলুন এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে নিচের লেখা গুলো পুরোপুরি পড়ে নিন।
পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাতগুলোর মধ্যে শবে বরাত একটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন রাত। এই রাতকে মুসলমানরা ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের রাত হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। “শবে বরাত” শব্দটি ফারসি। শবে বরাত বা মধ্য-শা'বান (আরবি: نصف شعبان, প্রতিবর্ণীকৃত: নিসফে শাবান ) বা লাইলাতুল বরাত হচ্ছে হিজরি শা'বান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে পালিত মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ রাত। উপমহাদেশে এই রাতকে শবে বরাত বলা হয়। ইসলামি বিশ্বাস মতে, এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষভাবে ক্ষমা করেন।
শবে বরাত নামাজের নিয়ম বিস্তারিত জেনে নিন
শবে বরাতে কি বিশেষ কোনো ফরজ/ওয়াজিব নামাজ আছে? না।
শবে বরাতে কোনো নির্দিষ্ট ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাজ নেই। এই রাতে যে নামাজ পড়া হয়, তা নফল ইবাদত হিসেবে পড়া হয়।
শবে বরাতের নামাজ কীভাবে পড়বেন?
১. নফল নামাজ (সাধারণ নিয়মে)
শবে বরাতে নফল নামাজ পড়ার নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতোই।
নিয়ত (বাংলা/আরবি যেকোনোটি মনে মনে করলেই যথেষ্ট)
নিয়ত (আরবি):
- نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلّٰهِ تَعَالٰى نَفْلَ الصَّلَاةِ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ
নিয়ত (বাংলা অর্থ):
- আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।
রাকাআতের সংখ্যা
২ রাকাআত করে সালাম ফিরানো উত্তম।
নামাজের ভেতরের আমল
- প্রতিটি রাকাআতে: সূরা ফাতিহা
- যেকোনো সূরা (ইখলাস, ফালাক, নাস, কদর, কাওসার ইত্যাদি)
- কোনো নির্দিষ্ট সূরা বাধ্যতামূলক নয়।
প্রচলিত ভুল ধারণা (জেনে রাখা জরুরি)
🚫 “শবে বরাতে ১০০ রাকাআত নামাজ পড়তেই হবে” ভুল
🚫 “প্রতি রাকাআতে নির্দিষ্ট সূরা না পড়লে নামাজ কবুল হবে না” ভুল
🚫 “এই নামাজ হাদিস দ্বারা বাধ্যতামূলক” ভুল
✔️ আসল বিষয় হলো: ইখলাস ও সহিহ নিয়মে নফল ইবাদত।
নামাজের পর কী করবেন?
নামাজের পর
তওবা ও ইস্তিগফার
- দোয়া
- দরুদ শরিফ
- কুরআন তিলাওয়াত
ইস্তিগফার:
- আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম
দোয়া:
- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।
- শবে বরাতের দিনের রোজা
- শবে বরাতের পরদিন (১৫ শাবান)
- রোজা রাখা মুস্তাহাব।
শবে বরাত নামাজ কত রাকাত বিস্তারিত জেনে নিন
শবে বরাত ইসলামের একটি বরকতময় রাত, যা শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত হয়। অনেক মুসলমান এই রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার চেষ্টা করেন। তবে শবে বরাতের নামাজ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি এই রাতে কোনো নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নেই।
- শবে বরাতে যে নামাজ আদায় করা হয়, তা মূলত নফল নামাজ। ইসলামে শবে বরাত উপলক্ষে আলাদা কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাজ নেই।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বা সাহাবায়ে কেরাম থেকে নির্দিষ্ট রাকাতসংখ্যার কোনো নামাজ প্রমাণিত হয়নি। তাই “শবে বরাতের নামাজ ১০০ রাকাত”, “১৪ রাকাত” বা “১২ রাকাত” পড়তেই হবে এ ধরনের ধারণার কোনো সহিহ ভিত্তি নেই।
- নফল নামাজ হিসেবে সাধারণভাবে ২ রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়া যায়। কেউ চাইলে ২, ৪, ৬, ৮, ১০, ১২ বা তারও বেশি রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন।
- সবচেয়ে উত্তম হলো প্রতি ২ রাকাত শেষে সালাম ফিরানো এবং একাগ্রতা ও খুশু-খুজুর সাথে নামাজ পড়া।
- নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যেকোনো সূরা পড়া যায়। কোনো নির্দিষ্ট সূরা নির্ধারিত নয়।
- নামাজের পাশাপাশি এই রাতে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করা উত্তম।
শব অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি। অর্থাৎ, মুক্তির রাত
প্রতি বছর শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হয়। ২০২৬ সালে পবিত্র শবে বরাত মুসলিম উম্মাহর জন্য আবারও নিয়ে আসবে আল্লাহর অশেষ রহমত, গুনাহ মাফের সুযোগ এবং তাকদির সংশোধনের সুবর্ণ সময়।
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো:
- শবে বরাতের অর্থ ও ইতিহাস
- শবে বরাতের ফজিলত
- কুরআন ও হাদিসের আলোকে শবে বরাত
- শবে বরাত ২০২৬ কবে
- শবে বরাতে করণীয় আমল
- শবে বরাতের নামাজের নিয়ত
- শবে বরাতের দোয়া
- শবে বরাতে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত
- প্রচলিত ভুল ধারণা
- শবে বরাত ও ভাগ্য নির্ধারণ
- শবে বরাতের দিনের রোজা
শবে বরাত কী? (শবে বরাতের অর্থ) বিস্তারিত জেনে নিন
শবে বরাত হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। এই রাতকে বলা হয়:
- লাইলাতুল বরাত
- লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান
- ক্ষমা ও মুক্তির রাত
এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
পবিত্র শবে বরাত ২০২৬ কবে বিস্তারিত জেনে নিন
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালে শবে বরাত পালিত হবে সম্ভবত ২ মার্চ (সোমবার) রাতে (বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তারিখ একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে)
শবে বরাতের ফজিলত (গুরুত্ব ও মর্যাদা)
শবে বরাতের ফজিলত অসংখ্য। হাদিস শরিফে এসেছে
“শাবান মাসের মধ্যরাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (ইবনে মাজাহ)
শবে বরাতের প্রধান ফজিলতসমূহ:
- গুনাহ মাফের রাত
- জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত
- রিজিক ও হায়াত নির্ধারণের রাত
- দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
- আল্লাহর রহমত নাজিলের রাত
কুরআনের আলোকে শবে বরাত বিস্তারিত জেনে নিন
আল্লাহ তাআলা বলেন “নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাতে একে নাজিল করেছি।”(সূরা দুখান: ৩)
অনেক মুফাসসিরের মতে, এই “বরকতময় রাত” দ্বারা শবে বরাতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
শবে বরাতকে বলা হয় তাকদির লেখার রাত। এই রাতে
- কার রিজিক কত হবে
- কার মৃত্যু হবে
- কে অসুস্থ হবে বা সুস্থ হবে
- কে হজে যাবে
এসব বিষয় আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয় (লাইলাতুল কদরে বাস্তবায়নের জন্য)।
শবে বরাতে করণীয় আমল বিস্তারিত জেনে নিন
নফল নামাজ আদায়
শবে বরাতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।
নফল নামাজের নিয়ত:
“নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা নফল সালাত, আল্লাহু আকবার।”
রাকাআতের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়:
- ২, ৪, ৬, ৮ বা তার বেশি পড়া যায়।
কুরআন তিলাওয়াত
- এই বরকতময় রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
- তওবা ও ইস্তিগফার
- বারবার পড়ুন
- আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহ।
জিকির ও দরুদ শরিফ
- সুবহানাল্লাহ
- আলহামদুলিল্লাহ
- আল্লাহু আকবার
- দরুদে ইব্রাহিম
শবে বরাতের দোয়া
প্রসিদ্ধ দোয়া:
- “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।”
শবে বরাতের দিনের রোজা
হাদিসে এসেছে, রাসূল ﷺ শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন।
শবে বরাতের পরদিন (১৫ শাবান) রোজা রাখা মুস্তাহাব।
শবে বরাতে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত
শবে বরাত নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা বিস্তারিত জেনে নিন
নির্দিষ্ট ১০০ রাকাআত নামাজ বাধ্যতামূলক ❌
নির্দিষ্ট সূরা না পড়লে আমল কবুল হয় না ❌
শুধু কবর জিয়ারত করলেই সব গুনাহ মাফ ❌
ইসলাম সহজ শুদ্ধ নিয়তই আসল।
কবর জিয়ারত
রাসূল ﷺ শবে বরাতে জান্নাতুল বাকি জিয়ারত করেছেন। তাই সংযমের সাথে
দোয়া ও ইস্তিগফারের উদ্দেশ্যে
কবর জিয়ারত করা জায়েজ।
শবে বরাতের শিক্ষা
- আল্লাহর দিকে ফিরে আসা
- অহংকার ও হিংসা ত্যাগ
- ক্ষমাশীল হওয়া
- আত্মশুদ্ধি অর্জন
পবিত্র শবে বরাত ২০২৬ আমাদের জন্য এক অসাধারণ সুযোগ নিজেকে বদলে নেওয়ার, গুনাহ থেকে মুক্তির এবং আল্লাহর রহমত অর্জনের। এই রাত যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে বাস্তব আত্মশুদ্ধির রাত হয় এই হোক আমাদের কামনা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত ও বরকত পূর্ণভাবে অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক এই আর্টিকেলে আমরা শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। আপনার শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি আবশ্যকতা। এটি শুধুমাত্র আপনার পাঠকদের জন্য একটি জ্ঞান এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে না, বরং শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অপরিহার্য। তাই, উল্লেখিত টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনার শবে বরাতের ফজিলত - পবিত্র শবে বরাত : ফজিলত, আমল, নিয়ত ও দোয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা ও কার্যকরী রাখুন, যা আজকের ডিজিটাল বিশ্বে আপনার সফলতার পথ প্রশস্ত করবে, ধন্যবাদ।


জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url