ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি বিস্তারিত জানুন

ভূমিকা

সুপ্রিয় পাঠক আজকাল অনেকেই অনলাইনে ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি  বিস্তারিত জানুন নিয়ে জানতে চান। আপনিও হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিশ্চয়ই ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি  বিস্তারিত জানুন কি তা জানার জন্যই আমাদের এই সাইটটিতে এসেছেন।
ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি  বিস্তারিত জানুন
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি  বিস্তারিত জানুন তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। চলুন এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে নিচের লেখা গুলো পুরোপুরি পড়ে নিন।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি বিস্তারিত জানুন

অনলাইন দুনিয়ায় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে গেলে দুটি জিনিস একেবারে অপরিহার্য ডোমেইন (Domain) এবং হোস্টিং (Hosting)। অনেকেই শুধু ওয়েবসাইট বানানোর কথা জানেন, কিন্তু আসলে এর ভিতরের গঠন কেমন, কিভাবে কাজ করে, কত প্রকার, কোনটা ভালো এসব জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় জানব ডোমেইন ও হোস্টিং কী, কত প্রকার, কীভাবে কাজ করে এবং কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত।

ডোমেইন কি প্রথমেই আমাদের জানা উচিৎ

ডোমেইন (Domain) হচ্ছে ইন্টারনেটে আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা নাম।
যেমন : আপনি যদি গুগলে যান, তাহলে “www.google.com” হচ্ছে গুগলের ডোমেইন নাম।
একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য মানুষ যাতে জটিল IP (যেমন 142.250.190.14) মনে না রাখতে হয়, তাই সহজ নাম বা ডোমেইন নেম সিস্টেম (DNS) তৈরি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ডোমেইন হলো আপনার ওয়েবসাইটের পরিচয় যেভাবে মানুষের নাম থাকে, তেমনি প্রতিটি ওয়েবসাইটেরও একটি নাম লাগে।

ডোমেইনের গঠন বা অংশ বিস্তারিত জানুন

একটি সম্পূর্ণ ডোমেইন সাধারণত ৩টি অংশে গঠিত হয় 
যেমন: www.zamzamit.com
www → এটি “World Wide Web” নির্দেশ করে (এটি ঐচ্ছিক অংশ)।
zamzamit → এটি হলো Second-Level Domain (SLD) বা আপনার ওয়েবসাইটের মূল নাম।
.com → এটি হলো Top-Level Domain (TLD) বা ডোমেইনের শেষ অংশ, যা বলে দেয় ওয়েবসাইটের ধরন।
ডোমেইনের প্রকারভেদ
ডোমেইন সাধারণত বিভিন্ন ধরণের হয়। নিচে সবচেয়ে প্রচলিত ডোমেইন টাইপগুলো দেওয়া হলো:

আসুন এখন জানি Top-Level Domain (TLD)

Top-Level Domain (TLD) হলো ইন্টারনেট ডোমেইন নামের সর্বোচ্চ স্তরের অংশ। সহজভাবে বললে, এটি হলো ওয়েবসাইটের ঠিকানার শেষ অংশ যা ডোমেইনের ধরন বা অবস্থান নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
  • www.example.com → এখানে .com হলো TLD
  • www.gov.bd → এখানে .bd হলো TLD
  • www.un.org → এখানে .org হলো TLD
TLD দুই ধরণের হতে পারে:
  • Generic TLD (gTLD) – সাধারণ উদ্দেশ্যের জন্য, যেমন: .com, .org, .net, .info
  • Country Code TLD (ccTLD) – কোনো দেশের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: .bd (বাংলাদেশ), .us (যুক্তরাষ্ট্র), .jp (জাপান)
সংক্ষেপে, TLD হলো ওয়েবসাইটের ডোমেইনের “শেষ শব্দ” যা ওয়েবসাইটের ধরন বা দেশের পরিচয় বোঝায়।
এটি হলো ডোমেইনের সর্বোচ্চ স্তর। যেমন: .com, .net, .org, .info, .biz, .co, .edu, .gov ইত্যাদি।
  • .com → বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য।
  • .org → সংগঠন বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য।
  • .net → নেটওয়ার্ক বা টেকনোলজি সংশ্লিষ্ট সাইটের জন্য।
  • .edu → শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
  • .gov → সরকারি ওয়েবসাইটের জন্য।

Country Code Top-Level Domain (ccTLD) আমাদের জানা উচিৎ

Country Code Top-Level Domain (ccTLD) হলো ইন্টারনেটের সেই TLD যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা হয়। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা দুটি অক্ষরের কোড থাকে যা আন্তর্জাতিক মান (ISO 3166-1 alpha-2) অনুযায়ী নির্ধারিত।
উদাহরণ:
  • .bd → বাংলাদেশ
  • .us → যুক্তরাষ্ট্র
  • .jp → জাপান
  • .in → ভারত
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
  • প্রতিটি ccTLD একটি নির্দিষ্ট দেশ বা ভূখণ্ডের জন্য বরাদ্দ।
  • দেশ বা অঞ্চলের স্থানীয় সংস্থা সাধারণত ccTLD পরিচালনা করে।
  • কখনও কখনও ccTLD সাধারণ গ্লোবাল ওয়েবসাইটের জন্যও ব্যবহৃত হয় (যেমন: .tv → তুভালু, কিন্তু ভিডিও-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে জনপ্রিয়)।
সংক্ষেপে, ccTLD হলো “দেশ ভিত্তিক” ডোমেইনের শেষ অংশ যা ওয়েবসাইটের অবস্থান বা দেশ নির্দেশ করে।
প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট ডোমেইন এক্সটেনশন থাকে। যেমন:
  • .bd → বাংলাদেশ
  • .in → ভারত
  • .uk → যুক্তরাজ্য
  • .us → যুক্তরাষ্ট্র
  • .jp → জাপান
এগুলো সাধারণত স্থানীয় ব্যবসা বা সরকারি সাইটে ব্যবহৃত হয়।

Subdomain সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

Subdomain হলো মূল ডোমেইনের (Primary Domain) একটি অংশ যা ওয়েবসাইটকে আরও ছোট বা বিশেষ অংশে ভাগ করতে সাহায্য করে। সহজভাবে বললে, এটি হলো “ডোমেইনের ডোমেইন”।
গঠন:
subdomain.example.com
subdomain → Subdomain
example.com → মূল ডোমেইন (Primary Domain)
উদাহরণ:
  • blog.zamzamit.com → এখানে blog হলো Subdomain
  • shop.example.com → এখানে shop হলো Subdomain
  • support.google.com → এখানে support হলো Subdomain
উদ্দেশ্য:
  • ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা (যেমন: ব্লগ, শপ, ফোরাম)
  • আলাদা সার্ভার বা সার্ভিসের জন্য ব্যবহার করা
  • ওয়েবসাইটের মূল ঠিকানার নাম পরিবর্তন না করেই আলাদা URL তৈরি করা
সংক্ষেপে, Subdomain হলো মূল ডোমেইনের একটি “উপশাখা” যা আলাদা বিভাগ বা সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হয়।
Subdomain হলো মূল ডোমেইনের একটি ভাগ বা শাখা।
যেমন:
  • blog.zamzamit.com
  • shop.zamzamit.com
  • bazar.zamzamit.com
এগুলো ব্যবহার করে একই ওয়েবসাইটের ভিন্ন সেকশন তৈরি করা যায়।

Premium Domain সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

Premium Domain হলো একটি বিশেষ ধরণের ডোমেইন নাম যা সাধারণ ডোমেইনের তুলনায় বেশি মূল্যবান। এগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, স্মরণযোগ্য, জনপ্রিয় কীওয়ার্ড বা ব্র্যান্ডের জন্য উপযুক্ত হয়।
Premium Domain সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
বৈশিষ্ট্য:
  • সংক্ষিপ্ত ও স্মরণযোগ্য: যেমন hotels.com, shop.com
  • ব্র্যান্ডেবল: ব্যবসা বা পণ্যের সাথে সহজে মেলানো যায়
  • উচ্চ ট্র্যাফিক সম্ভাবনা: সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাংকিং বা প্রচারণার সুবিধা
  • উচ্চ দাম: নতুন ডোমেইনের তুলনায় বিক্রি মূল্যে অনেক বেশি
উদাহরণ:
  • cars.com
  • travel.com
  • food.com
সংক্ষেপে, Premium Domain হলো একটি বিশেষ, উচ্চমূল্যমানের ডোমেইন যা ব্যবসা বা ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে।
এই ডোমেইনগুলো ছোট, সহজ এবং জনপ্রিয় শব্দে গঠিত হওয়ায় দাম অনেক বেশি হয়। যেমন: car.com, hotel.com ইত্যাদি।
কিভাবে ডোমেইন কাজ করে?
যখন আপনি ব্রাউজারে একটি ডোমেইন নাম টাইপ করেন, তখন সেটি DNS সার্ভার-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট IP ঠিকানা খুঁজে বের করে এবং আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল যেখানে আছে (হোস্টিং সার্ভার), সেখানে নিয়ে যায়।
অর্থাৎ, ডোমেইন হলো শুধু দরজার নাম, আর হোস্টিং হলো সেই দরজার ভিতরের ঘর।

হোস্টিং কি  আমাদের জানা উচিৎ আসুন জেনে নিই

হোস্টিং (Web Hosting) হলো এমন একটি সার্ভিস যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সব ফাইল, ছবি, ভিডিও, ডাটাবেজ ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা অ্যাক্সেসযোগ্য থাকে।
সহজভাবে বলতে গেলে:
আপনি যদি ডোমেইনকে ওয়েবসাইটের নাম বলেন, তবে হোস্টিং হলো তার বাসা।
হোস্টিং কিভাবে কাজ করে?
  • যখন কোনো ব্যবহারকারী আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, তখন হোস্টিং সার্ভার থেকে সেই ওয়েবসাইটের সব কনটেন্ট ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে প্রদর্শিত হয়।
  • এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে।
হোস্টিং এর প্রকারভেদ
  • ওয়েব হোস্টিং মূলত বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী বেছে নিতে হয়।

Shared Hosting প্রথমেই আমাদের জানা উচিৎ

Shared Hosting হলো এমন এক ধরনের ওয়েব হোস্টিং ব্যবস্থা যেখানে একটি সার্ভার একাধিক ওয়েবসাইট একসাথে ব্যবহার করে। অর্থাৎ, সার্ভারের RAM, CPU, Storage ইত্যাদি রিসোর্স অনেকগুলো সাইটের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়।
উদাহরণ:
ধরুন, একটি বড় কম্পিউটারের (সার্ভার) ওপর ৫০টি ওয়েবসাইট চলছে।
প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা জায়গা (Storage) বরাদ্দ থাকে, কিন্তু পুরো সার্ভারের রিসোর্স তারা একসাথে ব্যবহার করে এটাই Shared Hosting।
বৈশিষ্ট্য:
খরচ কম: একাধিক সাইট একই সার্ভার ব্যবহার করায় খরচ কমে যায়।
সহজ ব্যবস্থাপনা: নতুন ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত; cPanel বা DirectAdmin-এর মতো প্যানেল সহজে ব্যবহার করা যায়।
সীমিত রিসোর্স: একই সার্ভারে অন্য সাইটে ভিজিটর বেশি হলে আপনার সাইটও ধীর হতে পারে।
উপযোগিতা:
  • ছোট ব্লগ
  • ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
  • ছোট ব্যবসার সাইট
  • নতুন ওয়েব প্রজেক্ট
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী হোস্টিং টাইপ।
এখানে একাধিক ওয়েবসাইট একই সার্ভার ব্যবহার করে।
সুবিধা:
  • খরচ কম
  • নতুনদের জন্য উপযুক্ত
অসুবিধা:
  • ট্রাফিক বেশি হলে ওয়েবসাইট স্লো হতে পারে।
VPS Hosting (Virtual Private Server)
VPS Hosting (Virtual Private Server Hosting) হলো এমন এক ধরনের হোস্টিং ব্যবস্থা যেখানে একটি ফিজিক্যাল সার্ভারকে ভার্চুয়ালি ভাগ করে আলাদা আলাদা “প্রাইভেট সার্ভার” তৈরি করা হয়। প্রতিটি VPS নিজের মতো করে কাজ করে, যেন সেটা আলাদা একটি সার্ভার।
সহজভাবে বললে:
ধরুন, একটি বড় সার্ভারকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে প্রতিটি ভাগে আলাদা অপারেটিং সিস্টেম, RAM, CPU এবং Storage বরাদ্দ আছে।
এই প্রতিটি ভাগই হলো VPS (Virtual Private Server)।
বৈশিষ্ট্য:
  • নিজস্ব রিসোর্স: RAM, CPU, Storage অন্য ওয়েবসাইটের সঙ্গে ভাগ করতে হয় না।
  • উচ্চ পারফরম্যান্স: Shared Hosting-এর চেয়ে দ্রুত ও স্থিতিশীল।
  • রুট অ্যাক্সেস: সার্ভার কনফিগার বা কাস্টম সফটওয়্যার ইনস্টল করার স্বাধীনতা থাকে।
  • খরচ মাঝারি: Shared Hosting-এর চেয়ে বেশি, কিন্তু Dedicated Server-এর চেয়ে কম।
উপযোগিতা:
  • মাঝারি থেকে বড় ব্যবসার ওয়েবসাইট
  • ই-কমার্স বা নিউজ পোর্টাল
  • উচ্চ ট্রাফিক ওয়েবসাইট
  • কাস্টম সার্ভার কনফিগার প্রয়োজন এমন প্রজেক্ট
এটি শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে উন্নত। এক সার্ভারকে ভার্চুয়াল অংশে ভাগ করে আলাদা রিসোর্স দেওয়া হয়।
সুবিধা:
  • নিরাপত্তা বেশি
  • পারফরম্যান্স ভালো
অসুবিধা:
  • দাম একটু বেশি
  • কিছু টেকনিক্যাল জ্ঞান প্রয়োজন।
Dedicated Hosting
Dedicated Hosting হলো এমন একটি হোস্টিং ব্যবস্থা যেখানে পুরো একটি ফিজিক্যাল সার্ভার এককভাবে একজন ব্যবহারকারী বা একটি ওয়েবসাইটের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
অর্থাৎ, আপনি পুরো সার্ভারের CPU, RAM, Storage, Bandwidth ইত্যাদি সম্পূর্ণভাবে একাই ব্যবহার করতে পারেন অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হয় না।
সহজভাবে বললে:
Shared Hosting বা VPS-এ যেখানে সার্ভার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হয়,
সেখানে Dedicated Hosting-এ পুরো সার্ভারটি শুধু আপনার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কাজ করে।
বৈশিষ্ট্য:
  • সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (Full Control): সার্ভারের প্রতিটি সেটিংস ও সফটওয়্যার আপনি নিজে কনফিগার করতে পারেন।
  • উচ্চ গতি ও পারফরম্যান্স: যেহেতু রিসোর্স ভাগ হয় না, তাই ওয়েবসাইট অনেক দ্রুত চলে।
  • সিকিউরিটি বেশি: অন্য সাইটের কারণে ঝুঁকি থাকে না।
  • খরচ বেশি: সার্ভার এককভাবে ব্যবহারের কারণে দাম তুলনামূলক বেশি।
উপযোগিতা:
  • বড় ব্যবসা বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট
  • উচ্চ ট্রাফিক (millions of visitors) ওয়েবসাইট
  • ডেটা-সিকিউরিটি গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রজেক্ট
  • সার্ভার কাস্টমাইজ করতে হয় এমন অ্যাপ বা সফটওয়্যার
এখানে একটি সম্পূর্ণ সার্ভার কেবল একটি ওয়েবসাইটের জন্য বরাদ্দ থাকে।
সুবিধা:
  • সর্বোচ্চ গতি ও নিরাপত্তা
  • বড় ওয়েবসাইট বা ই-কমার্সের জন্য উপযুক্ত
অসুবিধা:
  • খরচ অনেক বেশি
  • সার্ভার ম্যানেজ করতে বিশেষজ্ঞ লাগে।
Cloud Hosting
Cloud Hosting হলো এমন এক ধরনের ওয়েব হোস্টিং ব্যবস্থা যেখানে একটি ওয়েবসাইটকে একাধিক সার্ভারের (Cloud Server Network) মাধ্যমে চালানো হয়।
অর্থাৎ, আপনার সাইট একটি নির্দিষ্ট সার্ভারে নয়, বরং অনেকগুলো সার্ভারের রিসোর্স মিলিয়ে হোস্ট করা হয়।
সহজভাবে বললে:
ধরুন, আপনার ওয়েবসাইট একসাথে অনেক সার্ভারে রাখা আছে।
যদি একটি সার্ভার কাজ না করে, তখন অন্য সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব নেয়।
ফলে ওয়েবসাইট কখনোই অফলাইনে যায় না।
বৈশিষ্ট্য:
  • High Uptime: একাধিক সার্ভার ব্যবহারের কারণে ডাউনটাইম খুব কম।
  • Scalable Resource: ট্রাফিক বেড়ে গেলে সহজে RAM, CPU বা Storage বাড়ানো যায়।
  • ফ্লেক্সিবল খরচ: আপনি যত রিসোর্স ব্যবহার করবেন, ততই পেমেন্ট করবেন।
  • Security ও Backup ভালো: ডেটা একাধিক সার্ভারে সেভ থাকে।
উপযোগিতা:
  • বড় ওয়েবসাইট বা নিউজ পোর্টাল
  • ই-কমার্স ওয়েবসাইট
  • উচ্চ ট্রাফিক বা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া সাইট
  • যেসব সাইটে নিরবচ্ছিন্ন আপটাইম দরকার
এখানে আপনার ওয়েবসাইট একাধিক সার্ভারে সংযুক্ত থাকে। ফলে কোনো সার্ভার ডাউন হলে অন্য সার্ভার থেকে ওয়েবসাইট চালু থাকে।
সুবিধা:
  • স্কেলেবল ও ফাস্ট
  • ডাউনটাইম খুব কম
অসুবিধা:
  • কনফিগারেশন কিছুটা জটিল।
WordPress Hosting
WordPress Hosting হলো এমন একটি ওয়েব হোস্টিং সেবা যা বিশেষভাবে WordPress ওয়েবসাইটের জন্য অপ্টিমাইজড করা হয়।
এটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন WordPress সাইট দ্রুত লোড হয়, নিরাপদ থাকে এবং সহজে ম্যানেজ করা যায়।
সহজভাবে বললে:
WordPress Hosting মানে এমন হোস্টিং যেখানে WordPress আগে থেকেই ইনস্টল বা কনফিগার করা থাকে,
তাই ব্যবহারকারীকে সার্ভার সেটআপ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
বৈশিষ্ট্য:
  • WordPress-Optimized Server: সার্ভার সেটআপ WordPress-এর জন্য বিশেষভাবে টিউন করা থাকে।
  • One-Click Install: এক ক্লিকেই WordPress ইনস্টল করা যায়।
  • Auto Update: WordPress Core, Plugin ও Theme স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়।
  • Enhanced Security: WordPress-specific ফায়ারওয়াল ও ম্যালওয়্যার প্রটেকশন থাকে।
  • Fast Loading Speed: ক্যাশিং ও CDN সেটিং আগে থেকেই কনফিগার থাকে।
ধরন:
  • Shared WordPress Hosting – কম দামে, ছোট সাইটের জন্য উপযুক্ত
  • Managed WordPress Hosting – প্রফেশনাল সাপোর্টসহ, বড় সাইট বা ব্যবসার জন্য
উপযোগিতা:
  • ব্লগার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর
  • ছোট থেকে মাঝারি ব্যবসা
যারা WordPress দিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে চান কিন্তু টেকনিক্যাল জটিলতায় যেতে চান না
বিশেষভাবে WordPress ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি হোস্টিং। এতে সাইট অপ্টিমাইজড থাকে।
সুবিধা:
  • ওয়ান-ক্লিক WordPress ইনস্টলেশন
  • সিকিউরিটি ভালো
অসুবিধা:
  • শুধুমাত্র WordPress সাইটের জন্য উপযোগী।
Reseller Hosting
Reseller Hosting হলো এমন এক ধরনের ওয়েব হোস্টিং ব্যবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মূল হোস্টিং কোম্পানির সার্ভার স্পেস কিনে তা অন্য গ্রাহকদের কাছে পুনরায় বিক্রি করতে পারে।
অর্থাৎ, আপনি নিজেই ছোট একটি হোস্টিং ব্যবসা চালাতে পারেন, নিজের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে। সহজভাবে বললে:
আপনি মূল হোস্টিং কোম্পানি (যেমন Hostinger, Namecheap, বা Bluehost) থেকে একটি বড় সার্ভার স্পেস কিনলেন।
তারপর সেই স্পেস ভাগ করে অন্যদের ওয়েবসাইট হোস্ট করার সুযোগ দিলেন এটাই Reseller Hosting।
বৈশিষ্ট্য:
  • Multiple Accounts: আপনি একাধিক ক্লায়েন্টের জন্য আলাদা cPanel / Hosting অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন।
  • White Label Branding: আপনি নিজের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে হোস্টিং বিক্রি করতে পারেন।
  • কম টেকনিক্যাল জ্ঞানেও ব্যবসা শুরু করা যায়: সার্ভার মেইনটেনেন্স মূল কোম্পানি করে দেয়।
  • নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ: আপনি নিজের মতো করে হোস্টিং প্যাকেজ বানিয়ে দাম নির্ধারণ করতে পারেন।
উপযোগিতা:
  • ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপার যারা ক্লায়েন্টদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন
  • যারা নিজস্ব হোস্টিং ব্যবসা শুরু করতে চান
  • ছোট আইটি কোম্পানি বা ফ্রিল্যান্স হোস্টিং প্রোভাইডার
এতে আপনি নিজের মতো করে হোস্টিং বিক্রি করতে পারেন। এটি মূলত হোস্টিং ব্যবসায়ীদের জন্য।
ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের দাম কেমন?
  • ডোমেইন: সাধারণত .com ডোমেইনের দাম বছরে ৮০০–১২০০ টাকা।
  • হোস্টিং:
  • Shared Hosting → ৬০০–৩০০০ টাকা/বছর
  • VPS → ৫০০০–১৫,০০০ টাকা/বছর
  • Dedicated → ২০,০০০ টাকা বা তারও বেশি
  • Cloud Hosting → ব্যবহার অনুযায়ী চার্জ

ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন

ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি। প্রথমে ডোমেইন নামটি সংক্ষিপ্ত, সহজ ও মনে রাখার মতো হতে হবে এবং আপনার ব্র্যান্ড বা ব্যবসার সঙ্গে মিল থাকতে হবে। নির্ভরযোগ্য রেজিস্ট্রার থেকে কিনুন, যাতে নিরাপত্তা ও নবায়ন সহজ হয়। হোস্টিং কেনার সময় সার্ভারের গতি, আপটাইম (৯৯.৯% বা তার বেশি), নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাকআপ সুবিধা এবং কাস্টমার সাপোর্ট ভালো কি না তা নিশ্চিত করুন। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ, ব্যান্ডউইথ ও ইমেইল সুবিধা যাচাই করে কিনুন। এসব বিষয় লক্ষ্য রাখলে ওয়েবসাইট দ্রুত, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো সম্ভব।
Trustworthy Provider নির্বাচন করুন
যেমন: 
  • Namecheap, Hostinger, Bluehost, GoDaddy, বা স্থানীয় ভালো কোম্পানি।
  • Customer Support আছে কিনা দেখুন
  • ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট থাকা খুব দরকার।
  • Security Features
  • SSL Certificate, DDoS Protection ইত্যাদি আছে কিনা।
  • Backup System
  • প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক ব্যাকআপ সিস্টেম থাকা জরুরি।
  • Speed & Uptime Guarantee
  • অন্তত ৯৯.৯% আপটাইম থাকা ভালো হোস্টিংয়ের লক্ষণ।

ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের সম্পর্ক কি  বিস্তারিত জানুন

ডোমেইন ও হোস্টিং একে অপরের পরিপূরক।
ডোমেইন ছাড়া হোস্টিং দিয়ে কেউ আপনার সাইট খুঁজে পাবে না, আবার হোস্টিং ছাড়া ডোমেইনে কিছু দেখানোও সম্ভব নয়।
  • অর্থাৎ, ডোমেইন হলো ঠিকানা
  • হোস্টিং হলো ঘর
  • ওয়েবসাইট হলো সেই ঘরের সাজসজ্জা।
  • কিভাবে ডোমেইন ও হোস্টিং সংযুক্ত করবেন
  • প্রথমে আপনার হোস্টিং প্যানেলে গিয়ে Name Server (NS) খুঁজে বের করুন।
  • তারপর ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে গিয়ে সেই NS সেট করুন।
২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে DNS Propagation সম্পন্ন হবে এবং আপনার ডোমেইন ও হোস্টিং একসাথে কাজ করবে।

কোন হোস্টিং আপনার জন্য উপযুক্ত  বিস্তারিত জানুন

  • ব্যবহারকারীর ধরন উপযুক্ত হোস্টিং টাইপ
  • নতুন ব্লগার Shared Hosting
  • মিডিয়াম ওয়েবসাইট VPS Hosting
  • বড় ই-কমার্স Dedicated Hosting
  • টেক স্টার্টআপ Cloud Hosting
  • WordPress ওয়েবসাইট WordPress Hosting

আপনার জন্য ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যবহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস 

  • ডোমেইনের নাম যেন ছোট ও সহজ হয়।
  • ব্র্যান্ড নামের সঙ্গে মানানসই ডোমেইন বাছুন।
  • SSL (HTTPS) ব্যবহার করুন।
  • নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন।
  • সার্ভারের লোড মনিটর করুন।
  • SEO পারফরম্যান্স বাড়াতে ফাস্ট সার্ভার বেছে নিন।
  • ডোমেইন ও হোস্টিং হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের প্রাণ।
একটি ভালো ডোমেইন আপনার ব্র্যান্ডকে পরিচিত করে, আর ভালো হোস্টিং আপনার সাইটকে সবসময় অনলাইনে রাখে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ওয়েবসাইট থাকা মানে আপনার ব্যবসাকে সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়া। তাই, শুরু করার আগে এই দুটির সঠিক ধারণা থাকা খুবই জরুরি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের ভিডিওটি দেখে আসতে পারেন:

উপসংহার

আজ আমরা ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি  বিস্তারিত জানুন নিয়ে আলোচনা করলাম। আগামীতে ভালো কোনো টপিক নিয়ে হাজির হবো। আশা করছি উপরের ডোমেইন এবং হোস্টিং কি, কত প্রকার, কি কি  বিস্তারিত জানুন বিষয়ে আলোচনা আপনার ভালো লেগেছে। যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানান । আমাদের ফলো করে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url