জন্ডিস হলে করণীয় কি ও এর লক্ষণ প্রতিকার বিস্তারিত জানুন

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক আপনি অনেক খোঁজাখুজির পর নিশ্চয়ই জন্ডিস হলে করণীয় কি ও এর লক্ষণ  প্রতিকার কি তা জানার জন্যই আমাদের এই সাইটটিতে এসেছেন।
জন্ডিস হলে করণীয় কি ও এর লক্ষণ  প্রতিকার
হ্যাঁ আজকে আমি জন্ডিস হলে করণীয় কি ও এর লক্ষণ প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব। এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।

জন্ডিস কি বা কাকে বলে জেনে নিন

জন্ডিস এর লক্ষণ কি? জন্ডিস হলে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় তার মধ্যে অন্যতম হলো চোখ ও প্রসাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া। জন্ডিস বা ইয়েলো ডিজিজ হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়াও জন্ডিসের আরও অনেক লক্ষণ রয়েছে। জন্ডিস এর লক্ষণ কি? এবং জন্ডিস প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। নিচে জন্ডিস এর লক্ষণ কি? বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

জন্ডিস এর লক্ষণ কি বিস্তারিত জেনে নিন

জন্ডিস এর লক্ষণ কি? এবং জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। জন্ডিস তেমন গুরুতর কোনো রোগ না হলেও অবহেলার কারণে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
জন্ডিস বা ইয়েলো ডিজিজ হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
১. জন্ডিস হলে চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়।
২. প্রসাবের রঙ গাঢ় বা হলুদচে-বাদামী হয়ে যেতে পারে।
৩. মল বা পায়খানার রঙ ফ্যাকাশে বা সাদা হয়ে যায়।
৪. শরীরে প্রচণ্ড দুর্বলতা ও অবসাদ অনুভূত হয়।
৫. ক্ষুধামন্দা ও বমি ভাব দেখা দেয়।
৬. মাঝে মাঝে জ্বর ও পেটে ব্যথা হতে পারে।
৭. ত্বকে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
৮. চোখে ঝাপসা দেখা বা মাথা ঘোরা অনুভব হতে পারে।
৯. লিভার বড় হয়ে পেট ফোলা দেখা দিতে পারে।
১০. দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে এটি লিভারের গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
আপনার জন্ডিস হয়েছে কিনা বুঝবেন কিভাবে? জন্ডিস হলে সাধারণত যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় সেগুলোর মাধ্যমে সনাক্ত করা সম্ভব। চলুন দেখে নেয়া যাক, জন্ডিস এর লক্ষণ কি? এবং জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। জন্ডিস কেন হয়? এবং জন্ডিস টেস্ট নাম গুলো নিচে তুলে ধরা হয়েছে।

জন্ডিস এর লক্ষণ কি কি বিস্তারিত জেনে নিন

চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হওয়া। জন্ডিস বা ইয়েলো ডিজিজ হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে রক্তে বিলিরুবিন নামক রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও নখ হলুদ বর্ণ ধারণ করে। জন্ডিসের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া, প্রসাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া, মলের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া, ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব, শরীর দুর্বল লাগা, পেটে ব্যথা ও ফোলা দেখা দেওয়া। অনেক সময় ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়াও হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ জন্ডিস লিভার সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
  • জন্ডিস হলে সর্বপ্রধান যে লক্ষণটি আপনার শরীরে প্রকাশ পাবে সেটি হলো চোখ এবং প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া। শুধু চোখ এবং প্রস্রাবের রঙ নয় অত্যধিক মাত্রায় জন্ডিস হলে সরাসরি হলদে ভাব ধারণ করবে। সুতরাং চোখ সহ শরীরের অন্যান্য অংশ হলুদ বর্ণ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের অন্যতম একটি লক্ষণ।
জ্বর হওয়া। 
  • জ্বর জন্ডিস এর অন্যতম একটি লক্ষণ। জন্ডিস হলে জ্বর হতে পারে এমনকি কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। তাই যদি শরীরে প্রচন্ড পরিমানে জ্বর থাকে এবং চোখ ও প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কেননা, এগুলো জন্ডিসের লক্ষণ।
দুর্বলতা। 
  • জন্ডিস হলে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই শারীরিক দুর্বলতা হলো জন্ডিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ। উপরোল্লেখিত উপসর্গগুলোর সাথে যদি দুর্বলতা থাকে তাহলে হতে পারে রোগীর জন্ডিস হয়েছে সুতরাং ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
পেট ব্যথা। 
  • জন্ডিস হলে কখনো কখনো পেট ব্যথা হতে পারে এমনকি তীব্র পেটব্যথা হওয়াও কিন্তু জন্ডিসের লক্ষণ। তাই পেট ব্যথা যদি অত্যাধিক থাকে এবং সেইসাথে জন্ডিসের অন্যান্য উপসর্গ প্রকাশ পায় তাহলে ধরে নিতে হবে যে ওই ব্যক্তি জন্ডিসে আক্রান্ত।
বমি বমি ভাব অথবা বমি। 
  • বমি বমি ভাব অথবা তীব্র আকারে বমি হওয়া হতে পারে জন্ডিসের একটি লক্ষণ। সাধারণত যখন জন্ডিসের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করে তখন বমি অথবা বমি বমি ভাব হতে পারে। 
  • জন্ডিস এর লক্ষণ কি? আশা করি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। নিচে জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

জন্ডিস এর প্রতিকার (jaundice treatment) - জন্ডিস এর খাবার - জন্ডিস হলে করনীয়

জন্ডিস এর লক্ষণ কি? ইতোমধ্যে উপরে তুলে ধরা হয়েছে তাই এখানে আর নতুন করে জন্ডিস এর লক্ষণ কি? সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে তুলে ধরা হবে জন্ডিসের প্রতিকার ও জন্ডিস এর খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। চলুন জেনে নেয়া যাক জন্ডিস হলে করনীয়, জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার এবং জন্ডিস এর খাবার।
jaundice treatment
আঁখের রস। 
  • জন্ডিস হলে যদি আপনি আখের রস খেতে পারেন। আখের রস খেলে খুব সহজেই জন্ডিসের প্রকোপ কমে আসবে। আখের রস জন্ডিস নিরাময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আখের রস কে জন্ডিস এর খাবার হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ফলের শরবত। 
  • জন্ডিস নিরাময় বিভিন্ন ফলের শরবত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। জন্ডিস হলে যদি আপনি পেঁপে তরমুজ ইত্যাদি ফলের রস নিয়মিত খান তাহলে জন্ডিস আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে জন্ডিস নিরাময় ফলের শরবত উপযুক্ত দাওয়াই। 
  • জন্ডিস এর খাবার হিসেবে যে সকল খাবার কে গণ্য করা হয় তার মধ্যে ফলের শরবত অন্যতম।
লেবুর রস। 
  • জন্ডিস হলে ডাক্তারগণ রোগীদেরকে নিয়মিত লেবুর রস সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন কেননা লেবুর রসে থাকা প্রাকৃতিক গুনাগুন জন্ডিস নিরাময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 
  • জন্ডিস হলে করনীয় কাজ সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি হলো লেবুর রস নিয়মিত সেবন করা।
মুলার পাতা। 
  • জন্ডিস হলে মুলার পাতার রস মিশিয়ে সেবন করলে খুব সহজেই জন্ডিস ভালো হয়ে যায়। জন্ডিস হলে করনীয় যে সকল কাজ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো মূল্যের পাতার জুস খাওয়া।
টমেটোর রস। 
  • জন্ডিস নিরাময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হল টমেটোর রস টমেটোর রস নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে খুব সহজেই জন্ডিস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাই টমেটোর রস কে বলা হয় জন্ডিস এর খাবার।
জন্ডিস এর লক্ষণ কি?, জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার, জন্ডিস এর খাবার ও জন্ডিস হলে করনীয় সম্পর্কে ইতোমধ্যেই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। নিচে জন্ডিস এর চিকিৎসা ও জন্ডিস এর ঔষুধ সমূহের নাম ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

জন্ডিস এর চিকিৎসা (jaundice treatment) - জন্ডিস এর ঔষুধ জেনে নিন

নিচে জন্ডিস এর চিকিৎসা (jaundice treatment), জন্ডিস এর ঔষুধ ও জন্ডিস কত প্রকার সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে। পূর্বেই বলা হয়েছে জন্ডিস তেমন জটিল কোনো রোগ নয় জন্ডিস হলে সাধারণ কিছু টোটকা অনুসরণ করলেই খুব সহজেই জন্ডিস নিরাময় করা সম্ভব। 
  • নির্দিষ্ট সময় পরে জন্ডিস এমনি ভাল হয়ে যায়।এরপরেও জন্ডিস হলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। জন্ডিস এর চিকিৎসা কিভাবে করবেন আশা করি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। জন্ডিস এর ঔষুধ সময়ের তালিকা নিচে তুলে ধরা হয়েছে।
  • জন্ডিস নিরাময় কার্যকর জন্ডিস এর ঔষুধ সমূহের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো। 
জন্ডিস হলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণ সাধারণত যে সকল জন্ডিস এর ঔষুধ প্রয়োগ করে থাকে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হবে। জন্ডিস নিরাময় হোমিও ঔষধ খুবই কার্যকর বলে প্রমাণিত।
১. জন্ডিসের চিকিৎসা মূলত এর কারণের উপর নির্ভর করে।
২. ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত জন্ডিসে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত পানি পান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. চিকিৎসকের পরামর্শে লিভার সাপোর্টিভ ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
৪. জন্ডিসের সময় তৈলাক্ত, ঝাল ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
৫. প্রচুর ফল, শাকসবজি ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উপকারী।
৬. অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হয়, কারণ এটি লিভার ক্ষতি বাড়ায়।
৭. কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
৮. গুরুতর লিভার সমস্যায় হাসপাতাল ভর্তি হয়ে স্যালাইন ও ইনজেকশন নিতে হয়।
৯. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি দ্রুত আরোগ্যে সহায়তা করে।
১০. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, কারণ তা বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। 
 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসারে জন্ডিস এর ঔষুধ গুলোর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো: জন্ডিস এর ঔষুধ সমূহ নিম্নরূপ:
  • নাক্স
  • লাইকো
  • চিয়নোথাস্
  • কার্ডুয়াস্ মেরিনাস্
  • নেট্রাম সাল্ফ
  • চায়না
  • মার্কসল
  • চেলিডোনিয়া
জন্ডিস হলে করনীয় ও জন্ডিস এর চিকিৎসা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই উপরে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং জন্ডিস এর ঔষুধ সমূহের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপরে তুলে ধরা হয়েছে। নিচে জন্ডিস কত প্রকার? জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি?, জন্ডিস এর মাত্রা ও জন্ডিস টেস্ট নাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এর পাশাপাশি জন্ডিস কি বাহিত রোগ? এবং জন্ডিস কেন হয়? তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

জন্ডিস কত প্রকার ও কি কি বিস্তারিত জেনে নিন 

জন্ডিস সাধারণত তিন প্রকারের হয়ে থাকে প্রি-হেপাটিক, হেপাটিক, এবং পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিস। প্রি-হেপাটিক জন্ডিসে রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন তৈরি হয়, যেমন রক্তকণিকা ভাঙার ফলে। হেপাটিক জন্ডিস লিভারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে হয়, যেমন হেপাটাইটিস, সিরোসিস বা ওষুধজনিত ক্ষতি। পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিস ঘটে যখন পিত্তনালীতে বাধা সৃষ্টি হয়, যেমন গলস্টোন বা টিউমারের কারণে। প্রতিটি প্রকারের জন্ডিসে লক্ষণ প্রায় একই হলেও কারণ ভিন্ন। সঠিক নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা ও আলট্রাসনোগ্রাম করা প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জন্ডিস সম্পূর্ণভাবে নিরাময় সম্ভব। 
জন্ডিস হলো তিন প্রকার।সাধারনত এই তিন প্রকারের জন্ডিস সচরাচর মানুষের শরীরে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। চলুন দেখে নেয়া যাক জন্ডিসের প্রকারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত। জন্ডিস কত প্রকার? তা নিম্নরুপ:
জন্ডিস কত প্রকার ও কি কি? 
  • হেমোলাইটিক জন্ডিস
  • হেপাটোসেলুলার জন্ডিস
  • অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস
জন্ডিস কি বাহিত রোগ? ও জন্ডিস কেন হয়? আশা করি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার, জন্ডিস এর চিকিৎসা ও জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি? সে বিষয়ে সম্পর্কে নিচে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি জন্ডিস এর খাবার, জন্ডিস কি বাহিত রোগ, জন্ডিস হলে করনীয় এবং জন্ডিস কত প্রকার সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি? জন্ডিস এর মাত্রা ও জন্ডিস টেস্ট নাম

জন্ডিসের ইংরেজি নাম Jaundice। এটি শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। সাধারণভাবে রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.২ থেকে ১.২ mg/dL। যখন এই মাত্রা ২ mg/dL বা তার বেশি হয়, তখন জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়। জন্ডিসের তীব্রতা হালকা, মাঝারি ও গুরুতর — এই তিন পর্যায়ে ভাগ করা হয়। জন্ডিস নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়, যেমন Serum Bilirubin Test, Liver Function Test (LFT), Complete Blood Count (CBC), এবং Ultrasonography। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের অবস্থা ও জন্ডিসের কারণ নির্ধারণ করা হয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি?, জন্ডিস এর মাত্রা ও জন্ডিস টেস্ট নাম সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হবে। জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি? জন্ডিস এর ইংরেজি নাম হলো Jaundice. জন্ডিস এর মাত্রা উঠানামা করে। যখন জন্ডিস এর মাত্রা কম থাকে তখন রোগী বুঝতে পারে না যে তার জন্ডিস হয়েছে। কিন্তু যখন জন্ডিস এর মাত্রা বেড়ে যায় তখন রোগীর মাঝে উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়।
তাই জন্ডিস এর মাত্রা কম থাকা অবস্থাতে এর চিকিৎসা করা উত্তম। জন্ডিস এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। জন্ডিস টেস্ট নাম সমূহ জানা থাকলে খুব সহজেই আপনি জন্ডিস টেস্ট করতে পারবেন।
জন্ডিস এর লক্ষণ কি?, জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কিত মধ্যে আলোচনা করা হলো। জন্ডিস টেস্ট নাম গুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। চলুন দেখে নেই জন্ডিস টেস্ট নাম গুলো। জন্ডিস এর চিকিৎসা ও জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি? তা জানতে শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি পড়ুন।
জন্ডিস টেস্ট নাম গুলো হলো:
  • Serum Bilirubin
  • Serum Bilirubin (direct) (child)
  • Serum Bilirubin (indirec) (child)
  • SGPT
  • SGOT
আশা করি জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি?, জন্ডিস এর মাত্রা ও জন্ডিস টেস্ট নাম গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। জন্ডিস এর চিকিৎসা, জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি? এবং জন্ডিস হলে করনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।

জন্ডিস কি বাহিত রোগ? - জন্ডিস কেন হয়?

জন্ডিস কি বাহিত রোগ? এবং জন্ডিস কেন হয় সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোকপাত করা হবে।চলুন দেখে নেয়া যাক জন্ডিস কি বাহিত রোগ এবং জন্ডিস কেন হয়? জন্ডিস কি বাহিত রোগ? জন্ডিস হলো একটি ভাইরাস বাহিত রোগ।
হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি, এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে যদি প্রদাহের সৃষ্টি করে তখন জন্ডিসের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। জন্ডিস কি বাহিত রোগ? আশা করি বুঝতে পেরেছেন। জন্ডিস কেন হয়? তা নিচে তুলে ধরা হলো। জন্ডিস কেন হয়? বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে সাধারণত যে সকল কারণে জন্ডিস হয়ে থাকে সেই কারণগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
জন্ডিস কেন হয়? তা নিম্নরূপ:
  • হেমোলাইটিক এনিমিয়া।
  • অবস্ট্রাকশন।
  • হেপাটোসেলুলার।
  • রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণে।
জন্ডিস এর লক্ষণ কি?, জন্ডিস কি বাহিত রোগ? ও জন্ডিস কেন হয়? আশা করি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। জন্ডিস এর লক্ষণ ও প্রতিকার, জন্ডিস এর চিকিৎসা ও জন্ডিস এর ইংরেজি নাম কি? তা উপরে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে পাশাপাশি জন্ডিস এর খাবার, জন্ডিস কি বাহিত রোগ, জন্ডিস হলে করনীয় এবং জন্ডিস কত প্রকার সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

জন্ডিস সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর বিস্তারিত জেনে নিন

১. জন্ডিস কী?
জন্ডিস হলো শরীরে বিলিরুবিন নামক পদার্থ বেড়ে গিয়ে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার অবস্থা।
২. জন্ডিসের ইংরেজি নাম কী?
৩. জন্ডিস কেন হয়?
লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস, ভাইরাল সংক্রমণ বা পিত্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে জন্ডিস হয়।
৪. জন্ডিসে কোন অঙ্গটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
লিভার বা যকৃত।
৫. জন্ডিসের প্রধান লক্ষণ কী?
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া।
৬. জন্ডিসে প্রসাবের রঙ কেমন হয়?
গাঢ় হলুদ বা বাদামি।
৭. জন্ডিসে পায়খানার রঙ কেমন হয়?
ফ্যাকাশে বা ধূসর রঙের।
৮. জন্ডিসে কি জ্বর হতে পারে?
হ্যাঁ, অনেক সময় জ্বর দেখা দেয়।
৯. জন্ডিসের সময় ক্ষুধা কেমন থাকে?
ক্ষুধামন্দা হয়।
১০. জন্ডিসে বমি বা বমি ভাব হয় কি?
হ্যাঁ, এটি একটি সাধারণ উপসর্গ।
  • কারণ ও ধরন
১১. জন্ডিস কয় প্রকারের হয়?
প্রি-হেপাটিক, হেপাটিক ও পোস্ট-হেপাটিক—এই তিন প্রকার।
১২. প্রি-হেপাটিক জন্ডিস কীভাবে হয়?
রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন তৈরি হলে।
১৩. হেপাটিক জন্ডিস কী?
লিভারের ভেতরের ক্ষতির কারণে হয়।
১৪. পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিস কী?
পিত্তনালী বন্ধ বা ব্লক হলে হয়।
জন্মের পর লিভার সম্পূর্ণ কার্যকর না হওয়ায়।
১৬. ভাইরাল হেপাটাইটিসে কি জন্ডিস হয়?
হ্যাঁ, এটি জন্ডিসের অন্যতম কারণ।
১৭. মদ্যপান কি জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে?
হ্যাঁ, অতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভার নষ্ট করে জন্ডিস ঘটাতে পারে।
১৮. কোন ভাইরাস জন্ডিস ঘটায়?
হেপাটাইটিস A, B, C, D, E ভাইরাস।
১৯. ওষুধজনিত জন্ডিস কীভাবে হয়?
কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি করে বিলিরুবিন জমায়।
২০. পিত্তপাথর বা গলস্টোনে জন্ডিস হয় কি?
হ্যাঁ, এটি পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিসের একটি কারণ।
  • পরীক্ষা ও নির্ণয়
২১. জন্ডিস নির্ণয়ের প্রধান পরীক্ষা কী?
Serum Bilirubin Test।
২২. লিভারের কার্যক্ষমতা জানতে কোন পরীক্ষা করা হয়?
Liver Function Test (LFT)।
২৩. জন্ডিসে রক্ত পরীক্ষা কেন জরুরি?
বিলিরুবিনের মাত্রা ও সংক্রমণ নির্ণয়ে।
২৪. জন্ডিসে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
০.২ থেকে ১.২ mg/dL।
২৫. জন্ডিস হলে কোন মাত্রা বিপজ্জনক ধরা হয়?
৫ mg/dL এর বেশি হলে গুরুতর।
২৬. আলট্রাসনোগ্রাম কেন করা হয়?
লিভার ও পিত্তনালীর অবস্থা দেখার জন্য।
27. Complete Blood Count (CBC) কেন দরকার?
রক্তকণিকার সংখ্যা ও সংক্রমণ চেক করতে।
28. শিশুর জন্ডিস কিভাবে পরীক্ষা করা হয়?
Bilirubin Level Test বা ব্লু লাইট পর্যবেক্ষণ।
ভাইরাল সংক্রমণ আছে কিনা তা নির্ণয়ের পরীক্ষা।
30. জন্ডিস টেস্টের রিপোর্টে কোন শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ?
“Total Bilirubin” ও “Direct Bilirubin”।
  • চিকিৎসা ও প্রতিকার
31. জন্ডিসের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
কারণ অনুযায়ী বিশ্রাম, ওষুধ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
32. ভাইরাল জন্ডিসে কী ওষুধ লাগে?
বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল বা সাপোর্টিভ লিভার ওষুধ।
33. জন্ডিসে কোন খাবার খাওয়া উচিত?
হালকা খাবার, ফল, শাকসবজি ও প্রচুর পানি।
34. কোন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে?
তৈলাক্ত, ভাজা, ঝাল ও মদ্যপ পানীয়।
35. জন্ডিসে বিশ্রাম নেওয়া দরকার কি?
হ্যাঁ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম খুব জরুরি।
36. জন্ডিসে লবণ বা মশলা কমানো দরকার?
হ্যাঁ, লবণ ও মশলা কম খাওয়া ভালো।
37. জন্ডিসে দুধ খাওয়া যায় কি?
পরিমিত দুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
38. জন্ডিসে ওজন কমে যায় কেন?
ক্ষুধামন্দা ও হজমের সমস্যা কারণে।
39. জন্ডিসে হারবাল ওষুধ খাওয়া ঠিক কি না?
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নয়।
40. চিকিৎসা ছাড়া জন্ডিস সেরে যায় কি?
কিছু ক্ষেত্রে পারে, তবে ঝুঁকি থেকে যায়।
  • পরিচর্যা ও প্রতিরোধ
41. জন্ডিস প্রতিরোধের উপায় কী?
পরিষ্কার পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার ও হেপাটাইটিস ভ্যাকসিন নেওয়া।
42. জন্ডিস হলে কতদিন বিশ্রাম প্রয়োজন?
সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ।
43. জন্ডিস কি সংক্রামক?
ভাইরাল জন্ডিস (যেমন হেপাটাইটিস A, E) সংক্রামক হতে পারে।
44. শিশুদের জন্ডিস কবে বিপজ্জনক?
যখন বিলিরুবিন দ্রুত বেড়ে যায়।
45. জন্ডিস হলে পানি পান কতটা দরকার?
প্রতিদিন অন্তত ৩–৪ লিটার।
46. জন্ডিস রোগী কি রোদে যেতে পারে?
অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত।
47. জন্ডিস হলে ঘরোয়া উপায়ে কী করা যায়?
নারকেল পানি, আখের রস ও হালকা ফলমূল খাওয়া উপকারী।
48. চিকিৎসক কখন দেখাতে হবে?
চোখ হলুদ হওয়া বা প্রসাব গাঢ় হওয়া মাত্রই।
গুরুতর লিভার ফেইলিউর হলে হতে পারে।
50. জন্ডিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য কি?
হ্যাঁ, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

উপসংহার

আজ আমরা জন্ডিস হলে করণীয় কি ও এর লক্ষণ  প্রতিকারসহ বিস্তারিত জেনে নিন নিয়ে আলোচনা করলাম। আগামীতে ভালো কোনো টপিক নিয়ে হাজির হবো। আশা করছি উপরের জন্ডিস হলে করণীয় কি ও এর লক্ষণ  প্রতিকারসহ বিস্তারিত জেনে নিন বিষয়ে আলোচনা আপনার ভালো লেগেছে। যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানান । আমাদের ফলো করে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url