হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে
BCS
ভূমিকা
সুপ্রিয় পাঠক আজকাল অনেকেই অনলাইনে হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে নিয়ে জানতে চান। আপনিও হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিশ্চয়ই হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে কি তা জানার জন্যই আমাদের এই জমজম আইটি সাইটটিতে এসেছেন।
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। চলুন এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে নিচের লেখা গুলো পুরোপুরি পড়ে নিন।
হায়েজ ও নেফাস কী - হায়েজ নেফাস কি
হায়েজ (حَيض)
হায়েজ হলো প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জরায়ু থেকে নির্দিষ্ট সময়ে স্বাভাবিকভাবে যে রক্ত নির্গত হয়, তাকে হায়েজ বলে। সাধারণত প্রতি মাসে এটি হয় এবং এটি কোনো রোগ নয়। হায়েজ অবস্থায় নারীর জন্য নামাজ, রোজা ও সহবাস নিষিদ্ধ থাকে। তবে পবিত্রতা লাভের পর (গোসল করার পর) আবার সব ইবাদত বৈধ হয়।
নেফাস (نِفاس)
নেফাস হলো সন্তান প্রসবের পর নারীর জরায়ু থেকে যে রক্ত বের হয়, তাকে নেফাস বলে। এর সর্বোচ্চ সময় সাধারণত ৪০ দিন ধরা হয় (এর আগেই বন্ধ হলে সেটাই গণ্য হবে)। নেফাস অবস্থাতেও নামাজ ও রোজা আদায় করা যায় না। রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে ইবাদত শুরু করতে হয়।
আরো পড়ুনঃ
হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি জেনে নিন
হ্যাঁ, যাবে।
হায়েজ অবস্থায় দরুদ শরিফ পড়া সম্পূর্ণ জায়েজ।
এতে কোনো নিষেধ নেই, বরং সওয়াব রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ
হায়েজ অবস্থায় আমল বিস্তারিত জেনে নিন
হায়েজ অবস্থায় নারীরা অনেক নেক আমল করতে পারেন। যেমন:
দরুদ শরিফ পড়া
দোয়া করা
আল্লাহর জিকির করা (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি)
তওবা ও ইস্তেগফার করা
ইসলামী বই পড়া
নেক কাজের নিয়ত করা
অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া
হায়েজ অবস্থায় আমল বন্ধ হয়ে যায় না, শুধু কিছু ইবাদত স্থগিত থাকে।
আরো পড়ুনঃ
হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে জেনে নিন
হায়েজ অবস্থায় যেসব ইবাদত করা যাবে:
✅ দরুদ পড়া
✅ জিকির-আজকার
✅ দোয়া করা
✅ তাসবিহ পড়া
✅ কুরআনের অনুবাদ বা তাফসির পড়া
✅ ইসলামী আলোচনা শোনা
✅ সদকা করা
✅ নফল দান ও সাহায্য করা
📌 মুখে মুখে কুরআনের আয়াত দোয়া হিসেবে পড়া (যেমন: বিসমিল্লাহ, রাব্বানা ইত্যাদি) অনেক আলেমের মতে জায়েজ।
আরো পড়ুনঃ
হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ বিস্তারিত জেনে নিন
হায়েজ অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ:
❌ নামাজ আদায় করা
❌ রোজা রাখা (পরে কাজা করতে হবে)
❌ কুরআন শরিফ স্পর্শ করে তিলাওয়াত করা
❌ তাওয়াফ করা
❌ সহবাস করা
❌ মসজিদে প্রবেশ করা
📌 নামাজের কাজা নেই, কিন্তু রোজার কাজা দিতে হয়।
আরো পড়ুনঃ
ঋতুকালীন ঋতুমতী মহিলাদের প্রতি নির্দেশ বিস্তারিত জেনে নিন
আর আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে রক্তস্রাব সম্বন্ধে। আপনি বলুনঃ তা অশুচি। কাজেই রক্তস্রাব অবস্থায় তোমরা স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না। সুতরাং যখন তারা উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তোমরা তাদের কাছে ঠিক সেভাবে গমন করবে যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালবাসেন।’’ (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ্ ২/২২২)
بَاب كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الْحَيْضِ.
হায়যের ইতিকথা।
وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا شَيْءٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ كَانَ أَوَّلُ مَا أُرْسِلَ الْحَيْضُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَحَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্ তা‘আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারো কারো মতে সর্বপ্রথম হায়য শুরু হয় বনী ইসরাঈলী মহিলাদের। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসই গ্রহণযোগ্য।
২৯৪. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা হাজ্জের উদ্দেশেই (মদিনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়য আসলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ কী হলো তোমার? তোমার হায়য এসেছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ্ তা‘আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ ছাড়া হাজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন। (৩০৫, ৩১৬, ৩১৭, ৩১৯, ৩২৮, ১৫১৬, ১৫১৮, ১৫৫৬, ১৫৬০, ১৫৬১, ১৫৬২, ১২৩৮, ১৬৫০, ১৭০৯, ১৭২০, ১৭৩৩, ১৭৫৭, ১৭৬২, ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৮৩, ১৭৮৬, ১৭৮৭, ১৭৮৮, ২৯৫২, ২৯৮৪, ৪৩৯৫, ৪৪০১, ৪৪০৮, ৫৩২৯, ৫৫৪৮, ৫৫৫৯, ৬১৫৭,৭২২৯; মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১) (আধুনিক প্রকাশনী- ২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০)
بَابُ الأمرِ بالنُّفَسَاءْ إذَا نُفِسْنَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ خَرَجْنَا لاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي قَالَ " مَا لَكِ أَنُفِسْتِ ". قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ " إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ ". قَالَتْ وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ.
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، قال سمعت عبد الرحمن بن القاسم، قال سمعت القاسم، يقول سمعت عاىشة، تقول خرجنا لا نرى الا الحج، فلما كنا بسرف حضت، فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابكي قال " ما لك انفست ". قلت نعم. قال " ان هذا امر كتبه الله على بنات ادم، فاقضي ما يقضي الحاج، غير ان لا تطوفي بالبيت ". قالت وضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نساىه بالبقر.
২৯৬। রওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তাঁকে (‘উরওয়াহ্কে) প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ঋতুবতী স্ত্রী কি স্বামীর খিদমত করতে পারে? অথবা গোসল ফরয হওয়ার অবস্থায় কি স্ত্রী স্বামীর নিকটবর্তী হতে পারে? ‘উরওয়াহ (রহঃ) জবাব দিলেন, এ সবই আমার নিকট সহজ। এ ধরনের সকল মহিলাই স্বামীর খিদমত করতে পারে। এ ব্যাপারে কারো অসুবিধা থাকার কথা নয়। আমাকে ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, তিনি হায়েযের অবস্থায় আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল আঁচড়ে দিতেন। আর আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু’তাফিক অবস্থায় মসজিদ হতে তাঁর (‘আয়িশার) হুজরার দিকে তাঁর নিকট মাথাটা বাড়িয়ে দিতেন। তখন তিনি মাথার চুল আঁচড়াতেন অথচ তিনি ছিলেন ঋতুবতী।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِي هِشَامٌ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّهُ سُئِلَ أَتَخْدُمُنِي الْحَائِضُ أَوْ تَدْنُو مِنِّي الْمَرْأَةُ وَهْىَ جُنُبٌ فَقَالَ عُرْوَةُ كُلُّ ذَلِكَ عَلَىَّ هَيِّنٌ، وَكُلُّ ذَلِكَ تَخْدُمُنِي، وَلَيْسَ عَلَى أَحَدٍ فِي ذَلِكَ بَأْسٌ، أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّهَا كَانَتْ تُرَجِّلُ ـ تَعْنِي ـ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حَائِضٌ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَئِذٍ مُجَاوِرٌ فِي الْمَسْجِدِ، يُدْنِي لَهَا رَأْسَهُ وَهْىَ فِي حُجْرَتِهَا، فَتُرَجِّلُهُ وَهْىَ حَائِضٌ
حدثنا ابراهيم بن موسى، قال اخبرنا هشام بن يوسف، ان ابن جريج، اخبرهم قال اخبرني هشام، عن عروة، انه سىل اتخدمني الحاىض او تدنو مني المراة وهى جنب فقال عروة كل ذلك على هين، وكل ذلك تخدمني، وليس على احد في ذلك باس، اخبرتني عاىشة انها كانت ترجل ـ تعني ـ راس رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي حاىض، ورسول الله صلى الله عليه وسلم حينىذ مجاور في المسجد، يدني لها راسه وهى في حجرتها، فترجله وهى حاىض
আবু ওয়াইল (রহঃ) তাঁর ঋতুবতী দাসীকে আবু রাযিন (রহঃ) এর নিকট পাঠাতেন, আর দাসী জুযদানে পেঁচিয়ে কুরআন মাজিদ নিয়ে আসত।
২৯৭। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আর তখন আমি হায়েযের অবস্থায় ছিলাম।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، سَمِعَ زُهَيْرًا، عَنْ مَنْصُورٍ ابْنِ صَفِيَّةَ، أَنَّ أُمَّهُ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَّكِئُ فِي حَجْرِي وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ
حدثنا ابو نعيم الفضل بن دكين، سمع زهيرا، عن منصور ابن صفية، ان امه، حدثته ان عاىشة حدثتها ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كان يتكى في حجري وانا حاىض، ثم يقرا القران
যারা নিফাসকে হায়য এবং হায়যকে নিফাস বলেন বিস্তারিত জেনে নিন
২৯৮। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার হায়েয দেখা দিলে আমি চুপি চুপি বেরিয়ে গিয়ে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কি নিফাস দেখা দিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর সঙ্গে চাদরের ভেতর শুয়ে পড়লাম। (৩২২, ৩২৩, ১৯২৯; মুসলিম ৩/২, হাঃ ২৯৬, আহমাদ ২৬৫৮৭) (আ.প্র. ২৮৯, ই.ফা. ২৯৪)
حدثنا المكي بن ابراهيم، قال حدثنا هشام، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي سلمة، ان زينب ابنة ام سلمة، حدثته ان ام سلمة حدثتها قالت، بينا انا مع النبي، صلى الله عليه وسلم مضطجعة في خميصة اذ حضت، فانسللت فاخذت ثياب حيضتي قال " انفست ". قلت نعم. فدعاني فاضطجعت معه في الخميلة.
হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংস্পর্শ করা বিস্তারিত জেনে নিন
২৯৯। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাবাত অবস্থায় একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম। (২৫০) (আ.প্র. ২৯০, ই.ফা. ২৯৫)
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ.
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، كِلاَنَا جُنُبٌ.
حدثنا قبيصة، قال حدثنا سفيان، عن منصور، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة، قالت كنت اغتسل انا والنبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، صلى الله عليه وسلم من اناء واحد، كلانا جنب.
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫. হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংস্পর্শ করা।
৩০০। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি ইযার পরে নিতাম, আমার হায়েয অবস্থায় তিনি আমার সাথে মিশামিশি করতেন। (৩০২, ২০৩০ দ্রষ্টব্য) (আ.প্র. ২৯০, ই.ফা. ২৯৫)
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫. হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংস্পর্শ করা।
৩০১। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তাছাড়া তিনি ই’তিকাফ অবস্থায় মাথা বের করে দিতেন, আর আমি হায়েয অবস্থায় মাথা ধুয়ে দিতাম। (২৯৫) (আ.প্র. ২৯০, ই.ফা. ২৯৫)
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫. হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংস্পর্শ করা।
৩০২। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ হায়েয অবস্থায় থাকলে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে প্রবল হায়েযে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তার সাথে মিশামিশি করতেন। তিনি [‘আয়িশা রাযিআল্লাহু আনহা] বলেনঃ তোমাদের মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মত কাম-প্রবৃত্তি দমন করার শক্তি রাখে কে? খালিদ ও জারীর (রহঃ) শায়বানী (রহঃ) হতে এ হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৩০০; মুসলিম ৩/১, হাঃ ২৯৩) (আ.প্র. ২৯১, ই.ফা. ২৯৬)
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ.
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ ـ هُوَ الشَّيْبَانِيُّ ـ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا، فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُبَاشِرَهَا، أَمَرَهَا أَنْ تَتَّزِرَ فِي فَوْرِ حَيْضَتِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا. قَالَتْ وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْلِكُ إِرْبَهُ. تَابَعَهُ خَالِدٌ وَجَرِيرٌ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ.
حدثنا اسماعيل بن خليل، قال اخبرنا علي بن مسهر، قال اخبرنا ابو اسحاق ـ هو الشيباني ـ عن عبد الرحمن بن الاسود، عن ابيه، عن عاىشة، قالت كانت احدانا اذا كانت حاىضا، فاراد رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يباشرها، امرها ان تتزر في فور حيضتها ثم يباشرها. قالت وايكم يملك اربه كما كان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يملك اربه. تابعه خالد وجرير عن الشيباني.
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫. হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংস্পর্শ করা।
৩০৩। মাইমূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় মিশামিশি করতে চাইলে তাকে ইযার পরতে বলতেন। শায়বানী (রহঃ) হতে সুফিয়ান (রহঃ) এ বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ৩/১, হাঃ ২৯৪, আহমাদ ২৬৯১৮) (আ.প্র. ২৯২, ই.ফা. ২৯৭)
حدثنا ابو النعمان، قال حدثنا عبد الواحد، قال حدثنا الشيباني، قال حدثنا عبد الله بن شداد، قال سمعت ميمونة، كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اراد ان يباشر امراة من نساىه امرها فاتزرت وهى حاىض. ورواه سفيان عن الشيباني.
৩০৪। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্র রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহ্র রাসূল? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি। (১৪৬২, ১৯৫১, ২৬৫৮; মুসলিম ১/৩৪, হাঃ ৭৯, ৮০ আহমাদ ৫৪৪৩) (আ.প্র. ২৯৩, ই.ফা. ২৯৮)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، قال اخبرنا محمد بن جعفر، قال اخبرني زيد ـ هو ابن اسلم ـ عن عياض بن عبد الله، عن ابي سعيد الخدري، قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في اضحى ـ او فطر ـ الى المصلى، فمر على النساء فقال " يا معشر النساء تصدقن، فاني اريتكن اكثر اهل النار ". فقلن وبم يا رسول الله قال " تكثرن اللعن، وتكفرن العشير، ما رايت من ناقصات عقل ودين اذهب للب الرجل الحازم من احداكن ". قلن وما نقصان ديننا وعقلنا يا رسول الله قال " اليس شهادة المراة مثل نصف شهادة الرجل ". قلن بلى. قال " فذلك من نقصان عقلها، اليس اذا حاضت لم تصل ولم تصم ". قلن بلى. قال " فذلك من نقصان دينها
ইব্রাহীম (রহ.) বলেছেনঃ (হায়য অবস্থায়) আয়াত পাঠে কোন দোষ নেই। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) জুনুবীর জন্য কুরআন পাঠে কোন দোষ মনে করতেন না। নবী ﷺ সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিক্র করতেন। উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) বলেনঃ (ঈদেন দিন) হায়য অবস্থায় মহিলাদের বাইরে নিয়ে আসার জন্য আমাদের বলা হতো, যাতে তারা পুরুষদের সাথে তাকবীর বলে ও দু‘আ করে। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আবূ সুফ্ইয়ান (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, হিরাক্লিয়াস (রোম সম্রাট) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পত্র চেয়ে নিলেন এবং তা পাঠ করলেন। তাতে লেখা ছিলঃ ‘‘দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। (আপনি বলুন!) হে কিতাবীগণ! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই-যেন আমরা আল্লাহ্ ব্যতীত কারো ইবাদত না করি। কোন কিছুকেই তাঁর শারীক না করি এবং আমাদের কেউ কাওকে আল্লাহ্ ব্যতীত রবরূপে গ্রহণ না করি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলুন, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম- (সূরাহ্ আলে-‘ইমরান ৩/৬৪)। ‘আত্বা (রহ.) জাবির (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘আয়িশাহ (রাযি.) হায়য অবস্থায় কা‘বা ত্বওয়াফ ছাড়া হাজ্জের অন্যান্য আহকাম পালন করেছেন কিন্তু সালাত আদায় করেননি। হাকাম (রহ.) বলেছেনঃ আমি জুনুবী অবস্থায়ও যবহ করে থাকি। অথচ আল্লাহর বাণী হলোঃ ‘‘তোমরা আহার করো না সে সব প্রাণী, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি।’’ (সূরাহ্ আন‘আম ৬/১২১)
৩০৫। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছেলে আমি ঋতুবতী হই। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললামঃ আল্লাহ্র শপথ! এ বছর হজ্জ না করাই আমার জন্য পছন্দনীয়। তিনি বললেনঃ সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটাতো আদম-কন্যাদের জন্যে আল্লাহ্ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কা’বার তাওয়াফ করবে না। (২৯৪) (আ.প্র. ২৯৪, ই.ফা. ২৯৯)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا عبد العزيز بن ابي سلمة، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن القاسم بن محمد، عن عاىشة، قالت خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم لا نذكر الا الحج، فلما جىنا سرف طمثت، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وانا ابكي فقال (ما يبكيك). قلت لوددت والله اني لم احج العام. قال (لعلك نفست). قلت نعم. قال " فان ذلك شىء كتبه الله على بنات ادم، فافعلي ما يفعل الحاج، غير ان لا تطوفي بالبيت حتى تطهري ".
৩০৬। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ (রাঃ) আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি কখনও পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে দেব? আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ হলো এক ধরনের বিশেষ রক্ত, হায়েযের রক্ত নয়। যখন তোমার হায়েয শুরু হয় তখন তুমি সালাত ছেড়ে দাও। আর হায়েয শেষ হলে রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় কর। (২২৮) (আ.প্র. ২৯৫, ই.ফা. ৩০০)
بَاب الِاسْتِحَاضَةِ.
دَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لاَ أَطْهُرُ، أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِالْحَيْضَةِ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلاَةَ، فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي ".
دثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، انها قالت قالت فاطمة بنت ابي حبيش لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله اني لا اطهر، افادع الصلاة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما ذلك عرق وليس بالحيضة، فاذا اقبلت الحيضة فاتركي الصلاة، فاذا ذهب قدرها فاغسلي عنك الدم وصلي ".
[*] হায়েয ও নিফাসের মেয়াদের অতিরিক্ত সময়কালীন রজঃস্রাবকে ইসতিহাযা এবং সে মহিলাকে মুস্তাহাযা বলা হয় । (আইনী ৩খ: ১৪২)
৩০৭। আসমা বিন্ত আবূ বক্র সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ এক মহিলা আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগলে কী করবে? আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগলে সে তা রগড়িয়ে, তারপর পানিতে ধুয়ে নেবে এবং সে কাপড়ে সালাত আদায় করবে। (২২৭) (আ.প্র. ২৯৬, ই.ফা. ৩০১)
بَاب غَسْلِ دَمِ الْمَحِيضِ.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ سَأَلَتِ امْرَأَةٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا إِذَا أَصَابَ ثَوْبَهَا الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ، كَيْفَ تَصْنَعُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَصَابَ ثَوْبَ إِحْدَاكُنَّ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ، فَلْتَقْرُصْهُ ثُمَّ لِتَنْضَحْهُ بِمَاءٍ، ثُمَّ لِتُصَلِّي فِيهِ ".
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن هشام، عن فاطمة بنت المنذر، عن اسماء بنت ابي بكر، انها قالت سالت امراة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله، ارايت احدانا اذا اصاب ثوبها الدم من الحيضة، كيف تصنع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا اصاب ثوب احداكن الدم من الحيضة، فلتقرصه ثم لتنضحه بماء، ثم لتصلي فيه ".
৩০৮। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমাদের কারো হায়েয হলে, পবিত্র হওয়ার পর রক্ত রগড়িয়ে কাপড় পানি দিয়ে ধুয়ে সেই কাপড়ে তিনি সালাত আদায় করতেন। (আ.প্র. ২৯৭, ই.ফা. ৩০২)
حدثنا اصبغ، قال اخبرني ابن وهب، قال اخبرني عمرو بن الحارث، عن عبد الرحمن بن القاسم، حدثه عن ابيه، عن عاىشة، قالت كانت احدانا تحيض، ثم تقترص الدم من ثوبها عند طهرها فتغسله، وتنضح على ساىره، ثم تصلي فيه.
৩০৯। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তাঁর কোন এক স্ত্রী ইস্তিহাযার অবস্থায় ই’তিকাফ করেন। তিনি রক্ত দেখতেন এবং স্রাবের কারণে প্রায়ই তাঁর নীচে একটি পাত্র রাখতেন। রাবী বলেনঃ ‘আয়িশা (রাঃ) হলুদ রঙের পানি দেখে বলেছেন, এ যেন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অমুক স্ত্রীর ইস্তিহাযার রক্ত। (৩১০, ৩১১, ২০৩৭ দ্রষ্টব্য) (আ.প্র. ২৯৮, ই.ফা. ৩০৩)
بَاب اعْتِكَافِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اعْتَكَفَ مَعَهُ بَعْضُ نِسَائِهِ وَهْىَ مُسْتَحَاضَةٌ تَرَى الدَّمَ، فَرُبَّمَا وَضَعَتِ الطَّسْتَ تَحْتَهَا مِنَ الدَّمِ. وَزَعَمَ أَنَّ عَائِشَةَ رَأَتْ مَاءَ الْعُصْفُرِ فَقَالَتْ كَأَنَّ هَذَا شَىْءٌ كَانَتْ فُلاَنَةُ تَجِدُهُ.
حدثنا اسحاق، قال حدثنا خالد بن عبد الله، عن خالد، عن عكرمة، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اعتكف معه بعض نساىه وهى مستحاضة ترى الدم، فربما وضعت الطست تحتها من الدم. وزعم ان عاىشة رات ماء العصفر فقالت كان هذا شىء كانت فلانة تجده.
৩১০। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তাঁর কোন একজন স্ত্রী ই’তিকাফ করেছিলেন। তিনি রক্ত ও হলদে পানি বের হতে দেখতেন আর তাঁর নীচে একটা পাত্র বসিয়ে রাখতেন এবং সে অবস্থায় সালাত আদায় করতেন। (৩০৯) (আ.প্র. ২৯৯, ই.ফা. ৩০৪)
بَاب اعْتِكَافِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اعْتَكَفَتْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةٌ مِنْ أَزْوَاجِهِ، فَكَانَتْ تَرَى الدَّمَ وَالصُّفْرَةَ، وَالطَّسْتُ تَحْتَهَا وَهْىَ تُصَلِّي.
حدثنا قتيبة، قال حدثنا يزيد بن زريع، عن خالد، عن عكرمة، عن عاىشة، قالت اعتكفت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم امراة من ازواجه، فكانت ترى الدم والصفرة، والطست تحتها وهى تصلي.
৩১২। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমাদের কারো একটির অধিক কাপড় ছিল না। তিনি হায়েয অবস্থায়ও এই কাপড়খানিই ব্যবহার করতেন, তাতে রক্ত লাগলে থুথু দিয়ে ভিজিয়ে নখ দ্বারা খুঁটিয়ে নিতেন। (আ.প্র. ৩০১, ই.ফা. ৩০৬)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا ابراهيم بن نافع، عن ابن ابي نجيح، عن مجاهد، قال قالت عاىشة ما كان لاحدانا الا ثوب واحد تحيض فيه، فاذا اصابه شىء من دم، قالت بريقها فقصعته بظفرها.
হায়য হতে পবিত্রতার গোসলে সুগন্ধি ব্যবহার বিস্তারিত জেনে নিন
৩১৩। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির জন্যে আমাদের তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হতে নিষেধ করা হতো। কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশদিন (শোক পালনের অনুমতি ছিল)। আমরা তখন সুরমা লাগাতাম না, সুগন্ধি ব্যবহার করতাম না, ইয়েমেনের তৈরি রঙিন কাপড় ছাড়া অন্য কোন রঙিন কাপড় পরিধান করতাম না। তবে হায়েয হতে পবিত্রতার গোসলে আজফারের খোশবু মিশ্রিত বস্ত্রখন্ড ব্যবহারের অনুমতি ছিল। আর আমাদের জানাযার পেছনে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এই বর্ণনা হিশাম ইব্নু হাস্সান (রহঃ) হাফসা (রাঃ) হতে, তিনি উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বিবৃত করেছেন। (১২৭৮, ১২৭৯, ৫৩৪০, ৫৩৪১, ৫৩৪২, ৫৩৪৩; মুসলিম ১১/১১, হাঃ ৯৩৮) (আ.প্র. ৩০২, ই.ফা. ৩০৭)
প্রিয় পাঠক এই আর্টিকেলে আমরা হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। আপনার হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি আবশ্যকতা। এটি শুধুমাত্র আপনার পাঠকদের জন্য একটি জ্ঞান এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে না, বরং হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে অপরিহার্য। তাই, উল্লেখিত টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনার হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি - হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে ও কার্যকরী রাখুন, যা আজকের ডিজিটাল বিশ্বে আপনার সফলতার পথ প্রশস্ত করবে, ধন্যবাদ।
জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url