বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির নাম ও পরিচিতি জেনে নিন

ভূমিকা

সুপ্রিয় পাঠক আজকাল অনেকেই অনলাইনে বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির নামও পরিচিতি জেনে নিন নিয়ে জানতে চান। আপনিও হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিশ্চয়ই বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড  প্রদানকারী কোম্পানির নাম ও পরিচিতি জেনে নিন কি তা জানার জন্যই আমাদের এই জমজম আইটি সাইটটিতে এসেছেন।
বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড  প্রদানকারী কোম্পানির নামও পরিচিতি জেনে নিন
হ্যাঁ আজকে আমি সঠিকভাবে বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড  প্রদানকারী কোম্পানির নামও পরিচিতি জেনে নিন তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। চলুন এই লেখার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে নিচের লেখা গুলো পুরোপুরি পড়ে নিন।

বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির নাম ও পরিচিতি

ডিভিডেন্ড কি, নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশের সেরা ২০টি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির নাম ও পরিচিতি
১. ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ
২. গ্রামীনফোন লিমিটেড
৩. স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
৪. রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ
৫. মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড
৬. আইসিবি (ICB - ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ)
৭. ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড
৮. একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড
৯. ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
১০. ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স
সেরা ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানিঃ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে বিনিয়োগ করেন মূল্য বৃদ্ধি ও ডিভিডেন্ড আয়ের জন্য। যারা নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের কাছে ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানিগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করবো এমন ২০টি কোম্পানি নিয়ে যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো ডিভিডেন্ড প্রদান করে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছে।

শেয়ার বাজারে কি, কিভাবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ লাভজনক করা যায়

শেয়ার বাজার কীঃ শেয়ার বাজারে (Stock Market) হলো এমন একটি বাজার যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার বা স্টক কেনাবেচা হয়। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির অংশীদার হতে এই শেয়ারগুলো কিনে থাকে। কোম্পানি যদি লাভ করে, তাহলে বিনিয়োগকারীও মুনাফা পায় একে বলে ডিভিডেন্ড। আবার শেয়ারের দাম বেড়ে গেলে সেটি বিক্রি করেও লাভ করা যায়।
কিভাবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ লাভজনক করা যায়ঃ সংক্ষেপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নিচে দেওয়া হলোঃ 
১। ভালো কোম্পানি নির্বাচন করুনঃ প্রতিষ্ঠিত, লাভজনক ও নির্ভরযোগ্য কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করুন। 
২। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি রাখুনঃ দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের দাম সাধারণত বৃদ্ধি পায়। ধৈর্য ধরলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 
৩। বাজার বিশ্লেষণ শিখুনঃ মৌলিক বিশ্লেষণ (Fundamental Analysis) ও কারিগরি বিশ্লেষণ (Technical Analysis) শিখে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিন। 
৪। ডাইভার্সিফিকেশন করুনঃ একাধিক খাত বা কোম্পানিতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিন, যেন ঝুঁকি কম হয়।
৫। ভুল সময়ে বিক্রি না করুনঃ বাজার পড়লে ভয় না পেয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী চলুন। আবেগে শেয়ার বিক্রি করা ঝুঁকিপূর্ণ। 
৬। বিশ্বস্ত ব্রোকার ব্যবহার করুনঃ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ ব্রোকার হাউজ ব্যবহার করুন। 
৭। খবর ও আপডেট থাকুনঃ অর্থনীতি, কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন ও শেয়ারবাজার সংক্রান্ত নিয়মিত আপডেট রাখুন। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ যেমন সম্ভব, তেমনি ঝুঁকিও থাকে। তাই জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

শেয়ার বাজার কীভাবে কাজ করে জেনে নিন

শেয়ার বাজার বা স্টক মার্কেট হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার বা মালিকানার অংশ সাধারণ মানুষ কিনতে ও বিক্রি করতে পারে। 
বাংলাদেশে প্রধান দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ
 ১। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) 
 ২। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)
স্টক কেনা মানেঃ 
  • কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনা মানে আপনি সেই কোম্পানির একটি অংশের মালিক হলেন। কোম্পানি লাভ করলে আপনি ডিভিডেন্ড পাবেন এবং শেয়ার মূল্য বাড়লে সেটাও আপনার লাভ।

সাম্প্রতিক শেয়ার বাজারের অবস্থান জেনে নিন

DSEX সূচকঃ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ বাংলাদেশ DSEX বন্ধ হয় ৫,২৪৭.৩ পয়েন্টে, যা পূর্বের মাসের ৫,১১২.৯ পয়েন্ট থেকে বৃদ্ধি পেয়েছিল ।
PE অনুপাতঃ জানুয়ারি ২০২৫-এ DSE‑র PE অনুপাত ছিল ৯.৫১০ ইউনিট, যা ডিসেম্বর ২০২৪‑এর ৯.৫০০ থেকে সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে—অতীতে এর গড় ছিল প্রায় ১৪.৫৩ ইউনিট ।
বাজারের মাপ এবং প্রবৃদ্ধিঃ ২০২৪ সালে শেয়ার বাজারের মোট বাজার মূলধন GDP‑এর প্রায় ১৯.৫৪%, যা আগে ২০২৩‑এ ২৫.৫% ছিল । এর ফলে বাজারের তুলনামূলক বৃদ্ধি অপেক্ষা কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
রিটার্ন হারঃ সাম্প্রতিকভাবে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্টক মার্কেট রিটার্ন ছিল ২৭.৪৯%, যা ২০২০‑এর তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছিল ।
লেনদেন পরিমাণঃ ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই DSE‑তে টার্নওভার ছিল ৳১,০৬৩ কোটি, যা ৪৭-সপ্তাহের উচ্চতম বাণিজ্য প্রদর্শন করে ।

শেয়ার বাজারে লাভজনক সেক্টর বিশ্লেষণ (২০২৬)

শীর্ষ ৫ সেক্টর ও তাদের কারণ (Biniyog‑এর তথ্য অনুযায়ী) ঃ 
১. ব্যাংকিং ও ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেসঃ 
উচ্চ লভ্যাংশ—প্রধান ব্যাংকগুলো ৬‑৮% পর্যন্ত যাতায়াত করছে। ক্রেডিট বৃদ্ধি YoY: ১৪.২% (২০২৩), যা SME এবং খুচরা ঋণের মাধ্যমে চালিত। 
২. ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথ‌কেয়ারঃ 
ঔষধ রপ্তানি বৃদ্ধি ২২% YoY (২০২৩)। সরকারের API উৎপাদনে ১০% কর ছাড়। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় Square Pharma এবং Beximco Pharma।
৩. টেলিকমিউনিকেশনঃ 
সেন্ট্রালভাবে আশাবাদী: ৫ বছরের Earning Growth অনুমান প্রায় ৩৭% (কারেকশন: বাংলাদেশি মার্কেট হিসেবে না হলেও সেক্টরাল গড় হিসেবে) । 
৪. রিয়েল এস্টেট, এনার্জি, ইউটিলিটি এবং কনজিউমার স্ট্যাপলসঃ 
৭‑১৫ % পর্যন্ত সেক্টরাল রিটার্ন (৭দিন, ১মাস, ৩মাসের মধ্যে)– রিয়েল এস্টেট ৫.৪৬%, এনার্জি ৫.১৩%, utilities ৪.৮৬%, কনজিউমার স্ট্যাপলস ৩.৪৯% ।

ডিভিডেন্ড কি, নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির বৈশিষ্ট্য

ডিভিডেন্ড হলো কোম্পানির মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে নগদ অর্থ বা বোনাস শেয়ার আকারে বন্টিত লাভ। এটি একটি কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের পরিচয় বহন করে।
নিয়মিত ডিভিডেন্ট প্রদানকারী কোম্পানির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভালো নির্দেশনা হতে পারে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলোঃ
১. স্থিতিশীল আয় (Stable Earnings)ঃ 
  • নিয়মিত ডিভিডেন্ট দিতে হলে কোম্পানির আয় ধারাবাহিকভাবে হতে হয়। এ ধরনের কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা সাধারণত বছর বছর খুব একটা কমে না।
২. দীর্ঘমেয়াদি বাজারে অবস্থান (Long-Term Market Presence)ঃ 
  • নিয়মিত ডিভিডেন্ট প্রদানকারী কোম্পানিগুলো সাধারণত অনেক বছর ধরে ব্যবসায় টিকে আছে এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত।
৩. স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা (Transparent & Strong Management)ঃ 
  • এ ধরনের কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ দক্ষ এবং দায়িত্বশীল হয়। তারা ব্যবসার লাভজনকতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকে।
৪. নগদ প্রবাহ ভালো (Good Cash Flow)ঃ 
  • নিয়মিত ডিভিডেন্ট দিতে হলে কোম্পানির হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকতে হয়। তাই এই কোম্পানিগুলোর ক্যাশ ফ্লো পজিটিভ থাকে।
 ৫. নিম্নঋণ নির্ভরতা (Low Debt Dependency)ঃ 
  • এরা সাধারণত কম ঋণনির্ভর ব্যবসা পরিচালনা করে, ফলে সুদের ব্যয় কম এবং মুনাফার বড় অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে পারে।
৬. নিয়মিত ডিভিডেন্ট ইতিহাস (Dividend History)ঃ 
  • এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বিগত ৫-১০ বছর ধরে ডিভিডেন্ট দেওয়ার ইতিহাস থাকে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়।
৭. কোম্পানির প্রবৃদ্ধি সীমিত কিন্তু স্থিতিশীল (Moderate but Stable Growth):ঃ 
  • এরা হয়তো খুব দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করে না, কিন্তু আয় ও মুনাফা ধীরে ধীরে বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হয়।
৮. শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি দায়বদ্ধতা (Shareholder-Focused)ঃ 
  • এই কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা অর্জনকে গুরুত্ব দেয় এবং লাভ হলে তা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে আগ্রহী থাকে।
৯. উৎপাদনশীল খাতে অবস্থান (Presence in Profitable Sector)ঃ 
  • সাধারণত নিয়মিত ডিভিডেন্ট প্রদানকারী কোম্পানিগুলো ব্যাংক, বিমা, টেলিকম, ফার্মাসিউটিক্যালস, এনার্জি বা কনজ্যুমার গুডস খাতে থাকে।
১০. সরকারি বা আধা-সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি (Often Government-Linked)ঃ 
  • অনেক সময় সরকারী বা সেমি-গভর্নমেন্ট কোম্পানিগুলো নিয়মিত ডিভিডেন্ট দেয় কারণ সরকার নিজেই শেয়ারহোল্ডার হিসেবে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে।
নিয়মিত ডিভিডেন্ট প্রদানকারী কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করা উচিত।

বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির নাম নিচে দেওয়া হলো

১. ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (BATBC)
সেক্টর: খাদ্য ও তামাকঃ ডিভিডেন্ড ইতিহাস: প্রতি বছরই উচ্চ হারে নগদ ডিভিডেন্ড প্রদান করে, অনেক সময় ২০০%+। বিশেষত্ব: অন্যতম বৃহৎ মুনাফাজনক কোম্পানি।
সেক্টর: টেলিকমিউনিকেশন, ডিভিডেন্ড ইতিহাস: নিয়মিত ও উচ্চ ডিভিডেন্ড প্রদানকারী। বিশেষত্ব: বাংলাদেশে সর্বাধিক শেয়ারহোল্ডার থাকা কোম্পানিগুলোর একটি।
৩. স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (Square Pharma)
সেক্টর: ফার্মাসিউটিক্যালস, ডিভিডেন্ড: নিয়মিত নগদ ও বোনাস ডিভিডেন্ড দেয়।
বিশেষত্ব: দেশসেরা ও আস্থা অর্জনকারী ফার্মা কোম্পানি।
৪. রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ
সেক্টর: কনজ্যুমার প্রোডাক্ট
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: ২০২৩ সালে ১৪০০% নগদ ডিভিডেন্ড দিয়েছে।
বিশেষত্ব: বহুজাতিক কোম্পানি, কম শেয়ার সংখ্যার কারণে ডিভিডেন্ড বেশি।
৫. মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড
সেক্টর: কনজ্যুমার হেলথ
ডিভিডেন্ড: ২০০%-৫০০% এর মধ্যে নগদ ডিভিডেন্ড দেয়।
বিশেষত্ব: পারাচুঁটি তেলের জন্য বিখ্যাত।
৬.আইসিবি (ICB - ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ)
সেক্টর: আর্থিক প্রতিষ্ঠান
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: নিয়মিত এবং নির্ভরযোগ্য।
৭. ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড
সেক্টর: রিয়েল এস্টেট
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: ২৫%-৩০% নগদ ডিভিডেন্ড দিয়ে থাকে।
বিশেষত্ব: নির্ভরযোগ্য হাউজিং কোম্পানি।
৮. একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড
সেক্টর: ফার্মাসিউটিক্যালস
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: নিয়মিত বোনাস ও নগদ ডিভিডেন্ড।
বিশেষত্ব: মধ্যম মানের বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত।
৯. ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
সেক্টর: বিমা
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: নিয়মিত বোনাস ও নগদ ডিভিডেন্ড প্রদান করে।
বিশেষত্ব: স্থিতিশীল কোম্পানি।
১০. ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স
সেক্টর: জীবন বিমা
ডিভিডেন্ড: ভাল রিটার্ন প্রদান করে থাকে।
বিশেষত্ব: দেশে খ্যাতিমান জীবন বিমা কোম্পানি।
১১. লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড
সেক্টর: সিমেন্ট
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: ধারাবাহিকভাবে ডিভিডেন্ড দিয়ে থাকে।
বিশেষত্ব: বহুজাতিক যৌথ উদ্যোগ।
১২. অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ
সেক্টর: খাদ্য
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: ২৫%-৪০% নগদ ডিভিডেন্ড নিয়মিত দেয়।
বিশেষত্ব: বিস্কুট শিল্পে শীর্ষস্থানীয়।
১৩. রবি আজিয়াটা লিমিটেড
সেক্টর: টেলিকমিউনিকেশন
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: নতুন হলেও শুরু করেছে ডিভিডেন্ড প্রদান।
বিশেষত্ব: দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর।
১৪. পিউর কেমিক্যালস
সেক্টর: কেমিক্যালস
ডিভিডেন্ড: বোনাস ও নগদ উভয় দেয়।
বিশেষত্ব: পণ্য বহুমুখী ও নির্ভরযোগ্য।
১৫. রেনাটা লিমিটেড
সেক্টর: ফার্মাসিউটিক্যালস
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির কোম্পানি।
বিশেষত্ব: শিশু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পণ্যে অগ্রগামী।
১৬. ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন (UPGDCL)
সেক্টর: পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: ৯০%-১৫০% এর মধ্যে নগদ ডিভিডেন্ড দেয়।
বিশেষত্ব: বিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়।
১৭. জেমিনি সি ফুড
সেক্টর: খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: নিয়মিত ২০%-৩০%।
বিশেষত্ব: রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান।
১৮. পদ্মা অয়েল কোম্পানি
সেক্টর: জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: ১০০%+ নগদ ডিভিডেন্ড।
বিশেষত্ব: সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি।
১৯. ডাচ-বাংলা ব্যাংক
সেক্টর: ব্যাংকিং
ডিভিডেন্ড: প্রতি বছর বোনাস ও নগদ দুই ধরনের ডিভিডেন্ড দেয়।
বিশেষত্ব: মোবাইল ব্যাংকিং (রকেট)-এর পথিকৃৎ।
২০. ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
সেক্টর: ব্যাংক
ডিভিডেন্ড ইতিহাস: স্থিতিশীল ডিভিডেন্ড প্রদানকারী।
২১. Singer Bangladesh Limited
খাত: কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স
ডিভিডেন্ড নীতি: নিয়মিত ক্যাশ ও স্টক
বিশেষত্ব: হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহে শীর্ষস্থানীয়।
সর্বশেষ ডিভিডেন্ড (২০২৩): ৩০% ক্যাশ
২২. Pubali Bank Limited
খাত: ব্যাংকিং
ডিভিডেন্ড নীতি: ক্যাশ ও স্টক উভয়
বিশেষত্ব: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি।
সর্বশেষ ডিভিডেন্ড (২০২৩): ১২.৫০% ক্যাশ, ১২.৫০% স্টক.
২৩. LankaBangla Finance Ltd.
খাত: এনবিএফআই (NBFI)
ডিভিডেন্ড নীতি: নিয়মিত ক্যাশ
বিশেষত্ব: ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস ও ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসে জনপ্রিয়।
সর্বশেষ ডিভিডেন্ড (২০২৩): ১৫% ক্যাশ
 ২৪. United Power Generation & Distribution Co. Ltd. (UPGDCL)
খাত: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
ডিভিডেন্ড নীতি: নিয়মিত ও উচ্চ ক্যাশ ডিভিডেন্ড
বিশেষত্ব: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে দক্ষ
সর্বশেষ ডিভিডেন্ড (২০২৩): ১৪৫% ক্যাশ
 ২৫. IDLC Finance Limited
খাত: এনবিএফআই
ডিভিডেন্ড নীতি: ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল
বিশেষত্ব: SME, হাউজিং ও কনজ্যুমার লোন সেবা
সর্বশেষ ডিভিডেন্ড (২০২৩): ৩০% ক্যাশ

সেরা ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানিঃ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

১. ডিভিডেন্ড প্রদানের অর্থ কী?
ডিভিডেন্ড হলো কোম্পানির মুনাফার নির্দিষ্ট অংশ, যা শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
২. কোন কোম্পানিগুলো বেশি ডিভিডেন্ড দেয়?
BATBC, গ্রামীনফোন, স্কয়ার ফার্মা, মারিকো প্রভৃতি কোম্পানি নিয়মিত ও উচ্চ ডিভিডেন্ড দেয়।
৩. ডিভিডেন্ড ইনকাম কি করযোগ্য?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে ডিভিডেন্ড আয়ের উপর কর আরোপ করা হয়।
৪. ডিভিডেন্ড কিভাবে পাওয়া যায়?
আপনার BO অ্যাকাউন্টে শেয়ার থাকলে নির্ধারিত রেকর্ড তারিখ অনুযায়ী ডিভিডেন্ড পেয়ে থাকেন।

উপসংহার

আজ আমরা বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড  প্রদানকারী কোম্পানির নাম ও পরিচিতি জেনে নিন নিয়ে আলোচনা করলাম। আগামীতে ভালো কোনো টপিক নিয়ে হাজির হবো। আশা করছি উপরের বাংলাদেশের সেরা ২৫টি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির নাম ও পরিচিতি জেনে নিন বিষয়ে আলোচনা আপনার ভালো লেগেছে। যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানান । আমাদের ফলো করে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জমজম আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url